দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক মসৃণ করতে আগ্রহী বেজিং। গত এক বছরে বার বার সেই আভাস দিয়েছে তারা। গত সপ্তাহে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শি জিংপিঙের বৈঠকেও তা উঠে এসেছে। জিংপিং দিল্লি থেকে ফিরতেই ফের এক বার নিজেদের অবস্থান বোঝাল বেজিং। জানাল, মোদী-শি বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য হল— ভারত এবং চিন পরস্পরের অংশীদার হবে।
ব্রিক্স সম্মেলন সেরে রবিবারই দিল্লি থেকে বেজিং ফিরেছেন শি। ওই দিনেই চিনা প্রেসিডেন্টের দিল্লি সফর এবং মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের নির্যাস ব্যাখ্যা করেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। ওয়াং বলেন, “দুই রাষ্ট্রনেতা ভারত-চিন সম্পর্কের কৌশলগত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যটি হল, ভারত এবং চিনকে পরস্পরের অংশীদার হতে হবে।”।
চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং সে দেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরো সদস্যদের মধ্যে অন্যতম। মোদী-শি বৈঠকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“ভারত এবং চিন যেন একে অপরের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে, পরস্পরকে সাহায্য করতে পারে এবং যৌথ ভাবে উন্নয়ন করতে পারে।”
আরও পড়ুন:
ভারতও যে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে আগ্রহী, সেই আভাসও মিলেছে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে। গত শনিবার শি-র সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “দু’দেশকেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংবেদনশীলতা এবং স্বার্থের উপরে জোর দিতে হবে।” ভারত এবং চিনের মতপার্থক্য যেন কখনওই দু’দেশের বিবাদে পরিণত না হয়, তার উপরেও জোর দেন মোদী এবং জিনপিং। প্রধানমন্ত্রীও বুঝিয়ে দিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করতে হলে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত এবং স্থিতিশীল থাকতে হবে।
আমেরিকা-চিন শুল্ক-সংঘাতের সময় থেকে দিল্লির সঙ্গে কৌশলগত বন্ধুত্বে আরও বেশি করে আগ্রহ দেখিয়েছে বেজিং। বিভিন্ন সময়ে এশিয়ার দুই শক্তিধর দেশের ক্ষমতার কথা বোঝাতে গিয়ে ‘হাতি’ এবং ‘ড্রাগন’-এর উপমা ব্যবহার করেছে তারা। বেজিং সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছে, ‘ড্রাগন’ এবং ‘হাতির’ মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি গত বছর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পাঠানো চিঠিতেও ‘ড্রাগন-হাতি’ নাচের কথা উল্লেখ করেছিল চিন। বলেছিল, দু’দেশের মানুষের স্বার্থেই ‘হাতি’ এবং ‘ড্রাগনের’ একসঙ্গে নাচা দরকার।