নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনে ঘিরে দু’মাস আগেই উত্তাল হয়েছিল রাজস্থানের বিভিন্ন শহর। কিন্তু সে রাজ্যের পুরভোটে জয়ের ধারা বজায় রাখল শাসকদল বিজেপি। তবে সামগ্রিক ভাবে আসনসংখ্যার হিসাবে খুব বেশি পিছিয়ে নেই প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস। জেতা ওয়ার্ড সংখ্যার হিসাবে তৃতীয় স্থানে নির্দল প্রার্থীরা।
রাজস্থানে গত ৯ এবং ১১ সেপ্টেম্বর দু’দফায় মোট ৩০৯টি পুর এলাকার ১০,২৪৫টি ওয়ার্ডে নির্বাচন হয়েছিল। এর মধ্যে ১০টি নগরনিগম, ৫১টি পুর পরিষদ এবং ২৪৮টি পুরসভা। প্রথম দফায় ভোটদানের হার ছিল ৭৬.৪২ শতাংশ। দ্বিতীয় দফায় ৭০.৬৮ শতাংশ। এ বারই প্রথম ‘এক রাজ্য এক ভোট’ নীতি ঘোষণা করে এক সঙ্গে ৩০৯টি পুর এলাকার ভোটের আয়োজন করেছিল মরুরাজ্যের বিজেপি সরকার। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় গণনা। রাত পর্যন্ত ঘোষিত ১০,২৪৪টি ওয়ার্ডের ফল বলছে, বিজেপি ৪,১৭৯টি এবং কংগ্রেস ৩,৬১৩টি ওয়ার্ডে জিতেছে। নির্দল প্রার্থীদের ঝুলিতে গিয়েছে ২,২৭৩টি ওয়ার্ড। জয়ী নির্দলদের একটি বড় অংশ রাজপুত সংগঠন করণী সেনা সমর্থিত বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে কংগ্রেস সহযোগী রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি (আরএলপি), সিপিএম এবং ভারত আদিবাসী পার্টি যথাক্রমে ৬৩, ৪২ এবং ৮টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে। এ ছাড়া, আম আদমি পার্টি (আপ) ৪২, বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) ১৫টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পুরভোটের ফলাফলকে মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার সরকারের প্রতি রাজস্থানের জনগণের আস্থার প্রকাশ বলে সোমবার দাবি করেছে বিজেপি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, বিকানের, ঝালাওয়ারের মতো ‘দুর্গে’ বিজেপির ভরাডুবি কিছুটা চাপ রাখবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দলকে। প্রসঙ্গত, ২০২০ এবং ২০২১ সালে রাজস্থানে মোট ১৯৬টি পুর এলাকার ৭,৫০০টি ওয়ার্ডে ভোট হয়েছিল। কংগ্রেস ১২৩, বিজেপি ৬৪টি এবং নির্দল ও অন্যেরা ন’টিতে বোর্ড গঠন করেছিল। এ বার ভোটের ফল বলছে, বহু পুর পরিষদ ও পুরসভার ‘ভাগ্য’ নির্ধারণ করবেন নির্দলেরা।
১০টি নগরনিগমের মধ্যে রাজধানী জয়পুরের পাশাপাশি কোটা, উদয়পুর, ভিলওয়াড়া এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বোর্ড গড়তে চলেছে বিজেপি। অলওয়ারেও এগিয়ে পদ্ম শিবির। কংগ্রেসের নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পেয়েছে বিকানেরে। এগিয়ে অজমেঢ় এবং পালি নগরনিগমে। জোধপুর নগরনিগমে কংগ্রেস এবং বিজেপি দু’পক্ষই ৪৪টি আসনে জেতায় ১১ নির্দল ও অন্য দলগুলির জয়ীদের উপরেই বোর্ড দখল নির্ভর করছে। ভরতপুরে নির্দল ও অন্যেরা ৩৮, বিজেপি ২০ এবং কংগ্রেস ৭টি ওয়ার্ডে জিতেছে। রাজধানী জয়পুরের ১৫০টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি ৭৮ এবং কংগ্রেস ৫৫টিতে জিতেছে। নির্দল ও অন্যেরা ১৫টিতে। ইভিএম বিভ্রাটের জন্য পরে ভোট হওয়া দু’টি ওয়ার্ডে ফল ঘোষণা হয়নি এখনও।