সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জৈশ-এ-মহম্মদের মাথা, মাসুদ আজহারের নাম তাদের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকা ‘রেড বুক’-এর অন্তর্ভুক্ত করল পাকিস্তান! তাঁর ‘মাথার দাম’ ২০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হল ৭০ লক্ষ টাকা। ঘটনাচক্রে, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অর্থনৈতিক জোগানের উপর নজরদারি চালানো আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-এর সম্মেলনের ঠিক আগেই এটা করা হল।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এফএটিএফের ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এড়াতে ইসলামাবাদ মরিয়া। তাই এমন কৌশল নিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ, সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরেরা। সেই কৌশলের অঙ্গ হিসেবেই কিছু দিন আগে মাসুদকে খুঁজে বার করে গ্রেফতার করার অনুরোধ জানিয়ে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু পত্রপাঠ কাবুল জানিয়ে দেয়, মাসুদ সে দেশে নেই। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা দফতর ‘ফেডারেল ইনভেস্টিগেটিভ এজেন্সি’ (এফআইএ) মাসুদের ‘মাথায় দাম’ বাড়িয়ে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ঘোষণা করার উঠেছে প্রশ্ন।
অক্টোবর মাসেই পুনর্মূল্যায়ন বৈঠকে বসছে এফএটিএফ। ২০১৮ সালের জুন মাসে সন্ত্রাসের উদ্দেশ্যে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থসাহায্য প্রতিরোধের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় ফেলা হয়েছিল। ধূসর তালিকায় থাকার অর্থ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার, বিশ্বব্যাঙ্ক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাঙ্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থসাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া। চার বছর পরে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে প্যারিসে এফএটিএম সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অর্থ জোগান কমানোর একাধিক তথ্যপ্রমাণ পেশ করে ধূসর তালিকা থেকে মুক্তি পেয়েছিল ইসলামাবাদ।
প্রসঙ্গত, গত বছর সিঁদুর অভিযানের সময় পাকিস্তানের যে সব জায়গায় হামলা চালিয়েছিল ভারত, তার মধ্যে অন্যতম ছিল জৈশের সদর দফতর বহওয়ালপুর। সেই সময় এক রাতে পাকিস্তানের ২১টি জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছিল জৈশের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান মাসুদের পরিবারের ১০ জনের। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে সেই সময় দাবি করা হয়, ওই হামলায় নিহত হয়েছেন মাসুদের বোন এবং ভগ্নিপতিও। এর পরে চলতি বছরের মার্চে মাসুদের দাদা মহম্মদ তাহির আনওয়ারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তিনি জৈশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।