দেশীয় প্রযুক্তিতে হালকা ট্যাঙ্ক জ়োরাবর নির্মাণে ‘ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থা’ (ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন বা ডিআরডিও)-র সঙ্গী হতে পারে ‘টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড’ (টিএএসএল)। সর্বনিম্ন দরপত্র দেওয়ার সুবাদে প্রথম ধাপে ‘মেক-১ ক্যাটেগরি’তে তাদের আগামী ১৩০ সপ্তাহের মধ্যে দু’টি কার্যকরী প্রোটোটাইপ ট্যাঙ্ক নির্মাণ ও প্রদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে।
সুযোগ পাচ্ছে, দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরপত্র প্রদানকারী সংস্থা ‘মাহিন্দ্রা ডিফেন্স সিস্টেমস লিমিটেড’ (এমডিএসএল)-ও। তাঁদের বিধি মেনে ২৫ টনের জ়োরাবর ট্যাঙ্কের প্রোটোটাইপ নির্মাণের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর। ‘মেক-১ ক্যাটেগরি’তে হালকা ট্যাঙ্কটির নকশার রদবদল ও উন্নয়নের জন্য সরকার ৭০ শতাংশ অর্থ প্রদান করবে। প্রসঙ্গত, ডিআরডিও-র নকশায় তৈরি জ়োরাবরে নিজস্ব প্রযুক্তির ‘টার্রেট সিস্টেম’ (ট্যাঙ্কের উপর কামান বসানোর ব্যবস্থা) এবং আধুনিক আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে টাটা গোষ্ঠী।
প্রসঙ্গত, ২০২০-র অগস্টে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় চিনা ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’র হামলায় ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পরে। সম্ভাব্য চিনা হামলার আশঙ্কায় দ্রুত ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায়’ (এলএসি) সেনা মোতায়েন করার সময় খামতি ধরা পড়ে হালকা ট্যাঙ্কের ক্ষেত্রে। ডিআরডিও-র তৈরি ‘অর্জুন’, রুশ টি-৯০ (ভীষ্ম), টি-৭২ (অজেয়) ওজনে ভারী হওয়ায় লাদাখের পাহাড়ি অঞ্চলে যুদ্ধের উপযুক্ত নয়। সে সময় চিনা হালকা ট্যাঙ্ক জ়েডটিকিউ-১৫-র মোকাবিলায় ভারতীয় সেনাকে ভরসা করতে হয়েছিল আশির দশকে রাশিয়া থেকে আনা বিএমপি-২ ‘ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকল্’ (সাঁজোয়া গাড়ি)-এর উপর। লাদাখে টানাপড়েনের সময়ই সেনার তরফে হালকা ট্যাঙ্কের আবেদন জানানো হয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে।
প্রাথমিক ভাবে চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আমদানির কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ স্লোগান অনুসরণ করে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ডিআরডিও-কে হালকা ট্যাঙ্ক নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২২ সালের গোড়াতেই তৈরি হয়ে যায় প্রথম প্রোটোটাইপ। লাদাখের পাশাপাশি গুজরাতের হজ়িরায় ‘এল অ্যান্ড টি হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর সহযোগিতায় হয়েছে ‘ট্র্যাক ট্রায়াল’ (ট্যাঙ্ক বহনকারী ইস্পাতের চেনের সক্ষমতার পরীক্ষা)। জ়োরাবরের প্রথম সংস্করণের জন্য বেলজ়িয়ামের সংস্থা ‘জন ককেরিল ডিফেন্স’-কে টারেট-সহ ‘১০৫ এমএম রাইফেলিং গান’ (কামান) বসানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভারতেই তা যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে। ট্যাঙ্কের পরবর্তী সংস্করণের জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘নাগ’ ক্ষেপণাস্ত্র বসানো এবং তার কার্যকারিতা পরীক্ষার পালা চলছে। ভারতীয় সেনা মোট ৩৫৪টি জ়োরাবর ট্যাঙ্ক কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৫৯টি ট্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই ডিআরডিও এবং বেসরকারি সংস্থা লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এল অ্যান্ড টি) যৌথ উদ্যোগে তৈরি করছে। বাকি প্রায় ২৯৫টি ট্যাঙ্কের জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার অন্তত দু’টি সংস্থাকে বাছাই করা হবে বলে সরকারি সূত্রের খবর।