মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সাবধানবাণী’ উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি করল ভারত। ১২০ কোটি ডলারের (প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা) এই চুক্তিতে মস্কোর থেকে ‘এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ (অ্যাওয়াক্স) বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র উদ্ধৃত করে বুধবার প্রকাশিত খবরে দাবি, নতুন চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় বায়ুসেনা ব্যবহৃত রুশ সুখোই এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনগুলির জন্য কেনা হবে ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ নামে পরিচিত আর-৩৭এম ‘আকাশ থেকে আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র। প্রথম দফায় ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে নয়াদিল্লির তরফে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে দূরপাল্পার এই অ্যাওয়াক্স বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এলে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্য অনেকটাই বদলে যাবে। ‘এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মসের পরে এ বার আরেকটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতিতে ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারে বলে তাঁদের মত।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ‘উড়ুক্কু রেডার’ হিসেবে পরিচিত ‘অ্যাওয়াক্স’ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফাইটার জেট ও ক্ষেপণাস্ত্রকে নিখুঁত ভাবে ‘লক্ষ্য’ চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, এই বিমানবাহিত ব্যবস্থায় একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড রেডার ওয়ার্নিং রিসিভার’ রয়েছে, যা শত্রুর রেডারকে ‘জ্যাম’ করতে সক্ষম। এ ছাড়া শত্রুপক্ষের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত আগাম সতর্কতা দিতে সক্ষম ‘অ্যাওয়াক্স’। ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে এখনও পাকিস্তান বা চিনের অ্যাওয়াক্স বহরকে ধ্বংস করার মতো কোনও দূরপাল্লার ‘আকাশ থেকে আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র নেই। আর-৩৭এম (মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটো যাবে ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’ নামে চিহ্নিত করে) সেই ঘাটতি পূরণ করবে। প্রায় ৪.২ মিটার দীর্ঘ এবং ৬০০ কিলোগ্রাম ওজনের এই হাইপারসনিক (শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিবেগ সম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্র ৬০ কিলোগ্রাম ‘হাই-এক্সপ্লোসিভ ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড’ নিয়ে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে পারে।