আগামী মাসেই জার্মানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতীয় নৌসেনার ডুবোজাহাজ নির্মাণের চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। ভারতে জার্মান রাষ্ট্রদূত ফিলিপ অ্যাকারম্যান বৃহস্পতিবার এ কথা ‘ইকনমিক টাইমস’-কে জানিয়েছেন। ৯০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অঙ্কের ওই চুক্তি অনুযায়ী, পি৭৫আই (প্রজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া) কর্মসূচিতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে কৌশলগত অংশীদারির ভিত্তিতে ভারতীয় নৌসেনার জন্য ছ’টি ডুবোজাহাজ বানাবে জার্মান সংস্থা ‘থাইসেনকর্প মেরিন সিস্টেমস’ (টিকেএমএস)।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এয়ার ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন (এআইপি) সিস্টেমে সজ্জিত ছ’টি টিকেএমএস ‘টাইপ-২১৪’ শ্রেণির ডিজেল-ইলেকট্রিক ডুবোজাহাজের অস্ত্রসজ্জার মধ্যে থাকবে ছয়টি ৫৩৩ এমএম টর্পেডো টিউব (হেভিওয়েট ব্ল্যাক শার্ক টর্পেডো-যুক্ত) এসএম-২৯ এক্সোসেট জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। ২০১৮ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক যখন ছ’টি ডুবোজাহাজ নির্মাণের বিষয়টি ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ তালিকাভুক্ত করেছিল, তখন আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছিল ৪৩ হাজার কোটি টাকা। তার পর ধাপে ধাপে পর্যালোচনায় বেড়েছে বাজেট। এর আগে জার্মানি থেকে শিশুমার শ্রেণির ৪টি ডিজ়েল-বিদ্যুৎ ডুবোজাহাজ কিনেছিল ভারতীয় নৌসেনা।
আরও পড়ুন:
এআইপি প্রযুক্তি-যুক্ত হওয়ায় ভারতীয় নৌসেনার অন্য যে কোনও ডুবোজাহাজের তুলনায় বেশি সময় জলের তলায় থাকতে পারবে ‘টাইপ-২১৪’। জার্মানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ডিজ়েল-বিদ্যুৎ ডুবোজাহাজ তৈরি হবে মুম্বইয়ের ‘মাঝগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড’-এ। প্রসঙ্গত, প্রায় দেড় দশক আগে ফরাসি সংস্থা ডিসিএনএস-এর সঙ্গে নকশা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চুক্তির ভিত্তিতে ছ’টি কলভরী গোত্রের স্করপেন ডুবোজাহাজ বানানো শুরু করেছিল ভারত। সেই প্রকল্পের নাম ছিল ‘প্রজেক্ট ৭৫’। ওই গোত্রের প্রথম স্টেলথ ডুবোজাহাজ আইএনএস কলভরীকে ২০১৫ সালের অক্টোবরে নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ২০২০-র নভেম্বরে এই গোত্রের শেষ ডুবোজাহাজটি ‘কমিশন’ পেয়েছিল। তার পর গত পাঁচ বছরে নতুন কোনও ডুবোজাহাজ নৌসেনার হাতে আসেনি। নতুন ডুবোজাহাজগুলির দৈর্ঘ্য ৬৫ মিটার, প্রস্থ ৬.৩ মিটার এবং ড্রাফট (উচ্চতা) ৬ মিটার। এর এইচওয়াই-১০০ ফেরোম্যাগনেটিক ইস্পাত দিয়ে নির্মিত হওয়ার কারণে এর ‘চৌম্বকীয় স্বাক্ষর’ খুব সীমিত। ফলে শত্রু নৌসেনার সোনারের নজরদারি অনেকাংশে এড়াতে সক্ষম।