Advertisement
E-Paper

আইএসআই-এর খোলনলচে বদলাতে ‘বিতর্কিত’ বিল পেশ হল লোকসভায়, প্রতিবাদে সরব বিরোধী সাংসদেরা

রাহুল গাঁধীর অভিযোগ, আইএসআই পরিচালনায় জওহরলাল নেহরুর আমলের আইন বাতিল করে মোদী সরকার নতুন আইন আনছে, কারণ এর পাঠ্যক্রম ও গবেষণাকে আরএসএস তার মতাদর্শ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০২৬ ২৩:৩৮
আইএসআই কলকাতা।

আইএসআই কলকাতা। ফাইল চিত্র।

তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কের আবহেই সোমবার লোকসভায় ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট’ (আইএসআই)-এর খোলনলচে বদলানোর বিল পেশ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। আগামী বুধবার বিলটি নিয়ে সংসদে বিতর্ক হবে বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম সেরা এই গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সদর দফতর কলকাতার বরাহনগরে। কিন্তু ভবিষ্যতে এই সদর দফতর সেখানে থাকবে কি না, তা নিয়ে আইএসআই-এর শিক্ষক, গবেষক, পড়ুয়াদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের ‘দ্য ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট বিল’-এ সদর দফতর কলকাতায় রাখার কোনও উল্লেখই নেই! আইএসআই-এর শিক্ষক-গবেষকদের আশঙ্কা, মোদী সরকার এখন আইএসআই-তে আইআইটি, আইআইএম ধাঁচের পরিচালন ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে। তার ফলে কলকাতায় সদর দফতর থাকবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, এত দিন আইএসআই-এর শিক্ষাবিদেরাই সংস্থা পরিচালনা করতেন।

এতদিন আইএসআই-এর পরিচালন পরিষদে ডিরেক্টর, অধ্যাপকেরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকার যে বিল এনেছে, তাতে আইএসআই-এর পরিচালন সংস্থায় ডিন-কেই রাখা হয়নি! অথচ খসড়া বিলে তাঁকে পরিচালন সংস্থায় রাখা হয়েছিল। আইএসআই-এর শিক্ষকেরা মনে করছেন, নতুন বিল পাশ হলে শিক্ষা মন্ত্রকের যুগ্মসচিব স্তরের আমলারাই আইএসআই নিয়ন্ত্রণ করবেন। ফলে স্বশাসন খর্ব হবে। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এবং প্রতিমা মণ্ডল সোমবার বিলের বিরোধিতা করেছেন। অন্য দিকে, সিপিআইএমএল (লিবারেশন) সাংসদ রাজা রাম সিংহ বিলটিকে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর জন্য আর্জি জানিয়েছেন।

শনিবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আইএসআই শিক্ষকেরা দাবি তোলেন তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করে কোনও ভাবেই যেন এই বিল পাশ না করানো হয়। তাঁদের দাবি খোদ অধিকর্তার সঙ্গেও এই বিল নিয়ে কোনও আলোচনা করা হয়নি। গত বছর থেকেই বিলের খসড়াকে কেন্দ্র করে বার বার সরগরম হয়েছে কলকাতার আইএসআই-এর ক্যাম্পাস। ২০২৫-এর আইএসআই বিল বর্জন করার ডাক উঠেছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে আইএসআই সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও। কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারিকরণ রুখে দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। প্রতিবাদী ব্যাজ পরে সমাবর্তনের মঞ্চে পিএইচডি ডিগ্রি নিতে উঠছিলেন শিক্ষার্থীরা। যা নিয়ে শিক্ষা মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল। দাবি ওঠে ১৯৫৯ সালের আইএসআই আইন বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। আইএসআই সোসাইটি বা সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই আইএসআই বিল, ২০২৫-এর খসড়া প্রকাশ করেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীর অভিযোগ, আইএসআই পরিচালনায় জওহরলাল নেহরুর আমলের আইন বাতিল করে মোদী সরকার নতুন আইন আনছে, কারণ এর পাঠ্যক্রম ও গবেষণাকে আরএসএস তার মতাদর্শ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

Lok Sabha Indian Statistical Institute

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy