Advertisement
E-Paper

‘ডিপি-র পিএ ফোন করলেও পোস্ট মুছব না’! ধর্মেন্দ্র ইস্তফা দিতেই ইনস্টায় পোস্ট বিজেপি সাংসদের কন্যার, বিতর্ক

অপরাজিতা এবং ওড়িশার অন্য বিজেপি নেতারা প্রধানের প্রতি সহানুভূতির বার্তা দিয়েছেন শনিবার। ঠিক সেই সময়েই সাংসদ-কন্যার এমন পোস্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে শাসকশিবিরকে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ ২০:০৪
(বাঁ দিকে) প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং ভুবনেশ্বরের সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর কন্যা অর্চিতা সচিন রাহার (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং ভুবনেশ্বরের সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর কন্যা অর্চিতা সচিন রাহার (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে পোস্ট করলেন বিজেপি সাংসদের কন্যা। প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ছাত্রদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র— সমাজমাধ্যমে এমনটাই পোস্ট করেছেন ভুবনেশ্বরের সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর মেয়ে অর্চিতা সচিন রাহার। এই পোস্ট ঘিরেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। ওড়িশার রাজনীতির অন্দরেও এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অপরাজিতা এবং ওড়িশার অন্য বিজেপি নেতারা প্রধানের প্রতি সহানুভূতির বার্তা দিয়েছেন শনিবার। ঠিক সেই সময়েই সাংসদ-কন্যার এমন পোস্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে শাসকশিবিরকে। অর্চিতা ইনস্টাগ্রামে ধর্মেন্দ্রের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সঙ্গে লেখেন, “নিট প্রশ্নফাঁস ঘিরে ব্যাপক ছাত্রবিক্ষোভের মাঝে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।” এর পরে তিনি আরও একটি পোস্ট করেন সমাজমাধ্যমে। সেখানে সাংসদ-কন্যা লেখেন, “ডিপি (ধর্মেন্দ্র প্রধান)-র আপ্তসহায়ক নিশ্চয়ই আমার মাকে ফোন বা মেসেজ করবেন। আমার আগের স্টোরিটি ডিলিট করতে বলবেন (যেমনটা আগেও হয়েছে)। আপনাদের এত খাটতে হবে না। আমি ডিলিট করব না। জয় জগন্নাথ! জয় হিন্দ।”

সূত্রকে উদ্ধৃত করে পিটিআই জানাচ্ছে, এ সবের মধ্যে ধর্মেন্দ্র দফতর থেকে ফোন গিয়েছিল সাংসদের কাছে। তাঁর মেয়ে যাতে পোস্টটি মুছে ফেলেন, সেই অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে তাতে কাজ হয়নি। দু’বারের সাংসদ অপরাজিতা এই পোস্টের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে সাংসদের দফতরের সহকারী ধনেশ্বর বারিক পিটিআই-কে ফোনে বলেন, “প্রত্যেকের নিজ নিজ মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তাঁর মেয়ে জেন-জ়ি-র প্রতিনিধি। তিনি নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। নিজের মনের কথা বলার অধিকার প্রত্যেকের আছে।”

অর্চিতার এই পোস্টের কারণে সাংসদকে বিপাকে প়ড়তে হচ্ছে কি না, তা-ও জানতে চাওয়া হয় ধনেশ্বরের কাছে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। সাংসদের দফতরের সহকারী বলেন, “সময়ই তা বলে দেবে।” বিষয়টি নিয়ে ভুবনেশ্বরের দু’বারের সাংসদ অপরাজিতার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মেয়ের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধার পর শনিবার রাতেই এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন অপরাজিতা। ধর্মেন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়ে সাংসদ লেখেন, “নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করার জন্য প্রচুর সাহসের প্রয়োজন। এই কঠিন সময়ে আমি তাঁর (ধর্মেন্দ্রের) পাশে আছি।” তবে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি সাংসদের। দলের অন্দরেই এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির এক প্রবীণ নেতা পিটিআই-কে বলেন, “বিজেপি একটি পরিবার এবং কোনও সদস্য বিপদে পড়লে অন্যদের উচিত তাঁর পাশে দাঁড়ানো। বিজেপির মতো একটি সুশৃঙ্খল দলে সারঙ্গীর মেয়ের কোনও দলীয় নেতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়।”

২০২৪ সালের বিধানসভা ভোটে ভুবনেশ্বর সেন্ট্রাল থেকে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ প্রধানও খোঁচা দিয়েছেন অপরাজিতাকে। তিনি বলেন, “সারঙ্গীর উচিত তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। ধর্মেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করার জন্য তাঁর মেয়ের উচিত ওড়িশার সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া। একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে সাংসদের মেয়ের এমন মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। ওড়িশা ও ভারতের প্রতি অসামান্য অবদান রয়েছে ধর্মেন্দ্রের।”

Dharmendra Pradhan BJP Odisha

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy