উত্তরপ্রদেশ কঠিন ঠাঁই। তাই তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা। যে কারণে ডিসেম্বরের গোড়ার মধ্যে রাজ্য নেতৃত্বকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে দিল্লিতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
গত সপ্তাহে লখনউয়ে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতিতে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। সূত্রের মতে, ওই বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, রাজ্য নেতৃত্বের ভার যোগীর হাতে থাকলেও, রাজ্য নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে ‘টিম অমিত শাহ’। সেই কারণে গোড়াতেই পশ্চিমবঙ্গের ধাঁচে রাজ্যের প্রায় ১.৮০ লক্ষ বুথের শক্তি বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছেন শাহ। পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বকে ডিসেম্বরের গোড়ায় প্রার্থী তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। যাতে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলা সম্ভব হয় এবং প্রচারে নেমে পড়তে পারেন প্রার্থীরা।
গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির চেয়ে ভাল ফল করে সমাজবাদী পার্টি। উপরন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভোট চুরি, নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, বেকারত্ব, পেট্রপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো নানাবিধ সমস্যা শাসক শিবিরের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার হাওয়াকে রুখতে নরেন্দ্র মোদীর উপরেই ভরসা রাখতে চাইছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ঠিক হয়েছে, রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্তে ভোটার সমর্থন টানতে নরেন্দ্র মোদী মোট ২৭ থেকে ৩০টির কাছাকাছি জনসভা করবেন। এ ছাড়া যে ৯৮টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে তার প্রত্যেকটি সফরে যাবেন বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন। এই জেলাগুলিতে বেছে বেছে সভা করবেন নিতিন নবীন, অমিত শাহ ও রাজনাথ সিংহের মতো বর্ষীয়ান নেতারা।
পাশাপাশি তৃণমূল স্তরে দল-বিরোধী প্রচারের মোকাবিলা ও জনসমর্থন বাড়াতে আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, যুব সমাজ-সহ ২৪টি শাখা সংগঠনকে দীপাবলির সময় থেকেই মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছে দল। এসআইআর, ভোট চুরি, মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলির মোকাবিলায় এখন থেকেই দলকে মাঠে নামতে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধরি। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছনো নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেগুলি নিয়ে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে প্রচারে যাওয়ার উপরে জোর দিয়েছে দল।
এ দিকে বিজেপি নেতৃত্বের চিন্তা বাড়িয়েছেন এলজেপি নেতা তথা রামবিলাস পুত্র চিরাগ পাসোয়ান। আজ তিনি উত্তরপ্রদেশে প্রয়োজনে একা লড়ার বার্তা দিয়েছেন। যা বিজেপির জন্য বেশ অস্বস্তির। কারণ চিরাগ একা লড়লে বিজেপির দলিত ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরার আশঙ্কা রয়েছে। চিরাগের কথায়, ‘‘জোট হলে ভাল। তা না হলে নাগাল্যান্ডের মতো উত্তরপ্রদেশেও একলা লড়ব।’’ তবে বিজেপির একাংশ বলছে, উত্তরপ্রদেশে আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে নিজের চাপ বাড়াতেই একা লড়ার হুমকি দিচ্ছেন চিরাগ। কারণ একা লড়লে তাঁর প্রার্থীদের যে জামানত জব্দ হবে তা বিলক্ষণ জানেন চিরাগ।