ওড়িশার বালেশ্বরের যে জঙ্গল থেকে পাঁচটি ওরাংওটাং পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে রাতে এসেছিল একটি কালো গাড়ি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই গাড়ির সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তা ছাড়া, স্থানীয়েরাও কেউ কেউ গাড়়িটি দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। ওই গাড়ির সঙ্গে পাচারচক্রের কোনও যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গা়ড়িটির খোঁজ চলছে।
ওরাংওটাং অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী। ভারতের কোথাও তাদের দেখা যায় না। মূলত ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার জঙ্গলে ওরাংওটাংয়ের বাস। তবে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন এবং চোকাশিকারিদের রমরমায় এদের সংখ্যা কমে এসেছে। বোর্নিয়ো ও সুমাত্রার জঙ্গলেই এখন কেবল ওরাংওটাং রয়েছে। সেখান থেকে ওড়িশার জঙ্গলে তারা কী করে এল, প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া প্রাকৃতিক ভাবে এটা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। আকাশপথে বা জলপথে কেউ বা কারা তাদের নিয়ে এসেছে। নেপথ্যে আন্তর্জাতিক চোরাশিকারের আন্তর্জাতিক কোনও চক্রও থাকতে পারে।
আরও পড়ুন:
বালেশ্বরের ভোগরাই এলাকার বড়াপাই গ্রাম সংলগ্ন এলাকার সিসি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, সোমবার রাত ১১টা ২৫ মিনিট নাগাদ একটি কালো রঙের মাহিন্দ্রা থার এসইউভি জঙ্গলের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। ১৫ মিনিট পর তা আবার ফিরে যায়। পাঁচটি ওরাংওটাং ওই গাড়িতে ছিল কি না, দেখছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি বিশেষ দল (এসটিএফ) গঠন করেছে বনদফতর।
ওরাংওটাংগুলিকে আপাতত ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে। ওড়িশার বনমন্ত্রী গণেশরাম সিংহখুন্তিয়া সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘‘বন দফতরের সকল চিকিৎসক বিষয়টি দেখছেন। পাশাপাশি আমাদের দফতরের মুখ্য সংরক্ষক (বন্যপ্রাণ) পরিস্থিতি নজরে রেখেছেন। আগামী দিনে দরকার হলে আমরা জাতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শও নেব।’’
ওরাংওটাংগুলির বয়স কত, স্পষ্ট ভাবে এখনও তা জানা যায়নি। সেগুলির উচ্চতা এক থেকে দেড় ফুটের মধ্যে। বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এক-একটি ওরাংওটাংয়ের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। বিমানবন্দর, রেলস্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।