ঘরে বসে মধ্যাহ্নভোজ করছিলেন নীতেশ চিব এবং তাঁর এক বন্ধু। ঠিক সেই সময়েই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মেসবাড়িটি। কংক্রিটের চাঙড়ের নীচে চাপা পড়ে গেলেন নীতেশ এবং তাঁর বন্ধু। বড় চাঙড়ের নীচে আটকে পড়ায় নড়াচড়ার কোনও উপায় ছিল না। শরীর ক্রমে অসাড় হয়ে আসছিল। দিল্লির সত্য নিকেতনে ভেঙে পড়া সেই মেসবাড়ির ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েও কী ভাবে বেঁচে ফিরলেন, ভয়ঙ্কর সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন নীতেশ।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নীতেশ। এনডিটিভি-কে তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে দেড় ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় তাঁদের দু’জনকে। নীতেশ জানিয়েছেন, বড় চাঙড়ের নীচে চাপা পড়ায় প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল আর বেঁচে ফিরবেন না। কারণ, কে কোথায় চাপা পড়ে রয়েছেন, তখন উদ্ধারকারীরাও জানতেন না। নীতেশের দাবি, তিনি এবং তাঁর বন্ধু দু’জনেই সঙ্গে থাকা মোবাইল থেকে কোনও রকমে হোয়াট্সঅ্যাপ ‘লোকেশন’ এবং এসওএস পাঠিয়েছিলেন বন্ধুদের। তাঁরাই উদ্ধারকারীদের জানান। সেই ‘লাইভ লোকেশন’-এর সূত্র ধরে শুরু হয় তল্লাশি। দেড় ঘণ্টা পর দু’জনকে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। রক্ত ঝরছিল, শরীর অসাড়।
নীতেশ বলেন, ‘‘আমার পুরো শরীর অসাড় হয়ে গিয়েছিল। বুঝতে পারছিলাম রক্ত ঝরছে। পরে দেখলাম আমি হাসপাতালে ভর্তি।’’ তাঁদের দাবি, মেসবাড়ির আবাসিকেরা কখনওই আন্দাজ করতে পারেননি যে, সেটি একদিন ভেঙে পড়বে। তাঁর কথায়, ‘‘বাইরে থেকে বেশ পরিপাটি ছিল বাড়িটি। ঘরের দেওয়ালগুলিতেও কোনও ফাটল ছিল না। তবে সপ্তাহখানেক আগে বেসমেন্টে মেরামতির কাজ হয়েছিল।’’ বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় পাঁচ পড়ুয়া-সহ সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত বেশ কয়েক জন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় বাড়ির মালিক, তাঁর পুত্র এবং স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে হস্টেলের অপারেটরকেও।