সামান্য ঝগড়া থেকে হাতাহাতি। তার পরই দেহ উদ্ধার হল বেঙ্গালুরুর দম্পতির। মৃতেরা হলেন সুমন্ত জৈন (৩২) এবং তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতী। উত্তর বেঙ্গালুরুতে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন স্বামী-স্ত্রী। শুক্রবার দম্পতির দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন সুমন্ত। উত্তর বেঙ্গালুরুর নন্দিনী লেআউটে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতী হোয়াইটফিল্ডে একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় চাকরি করতেন। তিনি ধারওয়াড় জেলার বাসিন্দা। সুমন্ত এবং পদ্মাবতীর বিয়ে হয়েছিল চার বছর আগে। তাঁদের কোনও সন্তান ছিল না। কর্মসূত্রে চার মাস আগে রাজেশ্বরীনগরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত্যুর আগে সুমন্ত তাঁর মাকে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। মাকে বলেন, ‘‘আমার পিএফের টাকা এবং যা যা জিনিস আছে সব নিয়ে যেয়ো। তোমাদের ছেড়ে আমি চললাম।’’ পরিবার সূত্রে খবর, সুমন্তের এই ভয়েস মেসেজ পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু ফোন বন্ধ ছিল। পরে বাড়িওয়ালাকে ফোন করে খোঁজ নিতে বলা হয়। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঢুকতেই দেখে, বিছানায় পড়ে রয়েছে পদ্মাবতীর নিথর দেহ, আর সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছেন সুমন্ত। দু’জনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ এবং পরিবার সূত্রে খবর, বাড়ি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। সুমন্ত তাঁর মাকে জানিয়েছিলেন, পদ্মাবতী দাবি করছেন যে বাড়িটি কেনা হয়েছে, সেটি তাঁর। শুক্রবার বাড়ি নিয়ে দু’জনের মধ্যে অশান্তি চরমে পৌঁছোয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তার মধ্যেই পদ্মাবতীর মুখে ঘুষি মারেন সুমন্ত। তিনি পড়ে গেলে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ধরেন। খানিক বাদে দেখেন স্ত্রীর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তদন্তকারী এক আধিকারিকের দাবি, স্ত্রীর মৃত্যু হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন সুমন্ত। তার পরই মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠান। তার পরই দম্পতির দেহ উদ্ধার হয়। পদ্মাবতীর পরিবার সুমন্তের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে।