বীরভূমে ফের টাকার ‘পাহাড়’ উদ্ধার করল পুলিশ। অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের বোলপুরের ফ্ল্যাট থেকে ৮০০ গ্রাম সোনা এবং নগদ ১৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সায়গলকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, টুলু মণ্ডলের মামলায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। মধ্যরাতে তাঁকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সকালে তাঁকে সিউড়ি আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে কিছু দিন আগে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। তাঁকে গ্রেফতারির পর থেকেই টুলুর সন্ধানে রয়েছে পুলিশ। কিন্তু তিনি এখনও ধরা পড়েননি। আড়ালে থেকেই আদালতে রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছেন। সেই মামলায় যোগসূত্র পেয়ে শনিবার সকালে বোলপুরের বাইপাস এলাকায় সায়গলের ফ্ল্যাটে হানা দিয়েছিল পুলিশ। সকাল থেকে তল্লাশি চলছিল। সূত্রের খবর, সোনা এবং নগদ টাকা ছাড়াও সায়গলের ফ্ল্যাট থেকে প্রচুর জমির দলিল পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, ১৫০টিরও বেশি জমির দলিল মিলেছে সায়গলের ফ্ল্যাটে। তিনি এলাকায় প্রভাবশালী ছিলেন। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেই তিনি টুলুকে সাহায্য করতেন বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান।
সায়গলকে আদালতে হাজির করিয়ে পুলিশ জানায়, তাঁর ফ্ল্যাট থেকে মোট ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা নগদ, প্রায় ৮০০ গ্রাম সোনা এবং ১৫০টি জমির দলিল উদ্ধার করা হয়েছে। পাওয়া গিয়েছে আরব এবং পাকিস্তানের মুদ্রাও। সায়গলের দাবি, নির্দোষ। চক্রান্ত করে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। পাকিস্তান এবং আরবের মুদ্রার প্রসঙ্গে সায়গল জানান, কোনও সময়ে মুদ্রা বিনিময় করতে গিয়ে তা তাঁর কাছে এসে থাকতে পারে। বিষয়টি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।
টুলুকে সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনও তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। আইনজীবী মারফত কলকাতা হাই কোর্টে রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাকে চ্যালেঞ্জ করেও মামলা করেছেন টুলু। তাঁর বেশ কিছু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই পদ্ধতির বিরুদ্ধেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তবে এই সংক্রান্ত মামলায় তাঁর দ্রুত শুনানির আবেদনে লাভ হয়নি। বিচারপতি কৌশিক চন্দ তাঁর মামলা ছেড়ে দেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে তালিকা অনুযায়ী শুনানির কথা আছে। চলতি সপ্তাহে সেই শুনানি হতে পারে। তাঁকে ধরতে না পারলেও তাঁর একাধিক আত্মীয় এবং তাঁর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কয়েক জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সেই তালিকায় এ বার যোগ হল সায়গলের নামও।