ইউপিআই-এ দু’হাজার টাকার বেশি ব্যবসায়িক লেনদেনে মাশুল বসিয়ে আসলে আমেরিকার চাপের কাছে নতিস্বীকার করল কেন্দ্রীয় সরকার, এমনটাই দাবি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীর। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে বুধবার কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। অভিযোগ, এ ভাবে আসলে আমেরিকার হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলাও হয়েছে। তাতে ১৪ এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ইউপিআই লেনদেন সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে। ফলে বিরোধী শিবির থেকে তো বটেই, আইনি পরিসরেও চাপ বাড়তে শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকারের উপর।
১৫ অক্টোবর থেকে ইউপিআইয়ের নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর বসানোর কথা বলেছে কেন্দ্র। দু’হাজার টাকার বেশি মার্চেন্ট লেনদেনের উপর ০.৪ শতাংশ হারে এমডিআর প্রযোজ্য হবে। এই ঘোষণার পরেই তোলপাড় শুরু হয় গোটা দেশে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, সাধারণ গ্রাহকেরা এই মাশুলের আওতায় আসবেন না। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে গ্রাহকদের থেকে মাশুল নিতে পারবে না ব্যাঙ্ক এবং সংস্থাগুলি। রুপে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কিন্তু বিতর্ক তাতে থামেনি।
আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারীর দাবি, এতে আখেরে সাধারণ মানুষেরই ক্ষতি হবে। শীর্ষ আদালতে মামলাটি করেছেন জনৈক আইনজীবী অঞ্জন দত্ত। কেন্দ্রীয় সরকার, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই), ন্যাশনাল পেমেন্ট্স কর্পোরেশন লিমিটেড (এনপিসিআই) এবং ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস (ইউপিআই)-এর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
রাহুল বুধবার একটি ভিডিয়োবার্তায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীর দৃষ্টান্ত টেনেছেন। বলেছেন, ‘‘ইন্দিরাজিকে এক বার প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি কোন দিকে ঝুঁকে থাকেন? বাঁ না ডান? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, আমি কোনও দিকে ঝুঁকি না। আমি সোজা দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু মোদীজির ভাবনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। উনি বাঁ কিংবা ডান দিক নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে একেবারে সোজা শুয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইউপিআই-এর উপর কর চাপিয়ে উনি প্রত্যেক ভারতবাসীর উপর কর বসিয়েছেন আর আমেরিকার হাতে বিপুল অর্থ তুলে দিচ্ছেন।’’ প্রধানমন্ত্রীকে ‘মেরুদণ্ড সোজা করে’ দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন রাহুল। অবিলম্বে ইউপিআই-এর মাশুল প্রত্যাহার করার আর্জি জানিয়েছেন।
তবে ইউপিআই সংক্রান্ত কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে খুব বেশি পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সরকারের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এক বার যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া হয়ে গিয়েছে, তা থেকে আর সরে আসার কথা ভাবা হচ্ছে না। এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট ভাবনাচিন্তা করে পাঁচ বছর আগেই নেওয়া হয়ে গিয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। ফলে আপাতত কোনও চাপের মুখেই কেন্দ্র পিছু হটবে না।