দিল্লি পুলিশের ধরপাকড়ের ফলে শনিবার দিনভর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা, সমর্থকেরা যন্তর মন্তর পৌঁছোতে পারেননি। তবে দিল্লি পুলিশের ধরপাকড়, মিছিল আটকানোর চেষ্টায় তারা যে পিছু হটছে না, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল সিজেপি। তাদের দাবি, রবিবার আবার দিল্লির রাজপথে নামবে তারা। মিছিল যাবে যন্তর মন্তরের দিকে। আন্দোলন এখনই থামছে না।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে শনিবার দিল্লিতে কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং ছাত্র সংগঠন। সেই কর্মসূচি ঠেকাতে দিল্লিকে একপ্রকার ‘অভেদ্য দুর্গে’ পরিণত করা হয়েছিল। যন্তর মন্তর তো বটেই, দিল্লির বিভিন্ন দিকে ব্যারিকেড বসানো হয়। রাস্তায় নামে হাজার হাজার পুলিশ। তৈরি হয় অনেকগুলি অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্প। শনিবার সকাল থেকেই ধরপাকড় শুরু হয়। ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকালেই মহারাষ্ট্র থেকে দিল্লি আসেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। একই বিমানে ছিলেন সিজেপি-র আরও দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। সকাল ১০টা ১৯ মিনিট নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দরে নামে তাঁদের বিমান। সেখান থেকেই তাঁদের আটক করা হয়। তিন জনকে তিনটি আলাদা জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দীপকে-কে গুরুগ্রাম, সৌরভকে দিল্লি এবং রাঙ্কাকে নিয়ে যাওয়া হয় দ্বারকায়। আটক হওয়ার পরেই সিজেপি-র সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে দীপকে-র একটি ভিডিয়োবার্তা পোস্ট করা হয়। সেই পোস্টে দীপকে-কে বলতে শোনা যায়, যদি তাঁকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়, প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্দে! সকলকে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বানও করেন দীপকে।
দীপকে-দের আটক, পুলিশি নিরাপত্তার পরেও অনেকেই শনিবার দিল্লির রাজপথে নেমেছিলেন। অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দেখা গিয়েছে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করতে। যদিও পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে কেউই যন্তর মন্তর পর্যন্ত যেতে পারেননি। বিভিন্ন দিকে আটকে দেওয়া হয় মিছিল। আটক হন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। সেই প্রসঙ্গ টেনে সন্ধ্যার পর অজিঙ্ক এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘‘এ ভাবে আমাদের আটকানো যাবে না।’’
আরও পড়ুন:
সিজেপি নেতা অজিঙ্কের ঘোষণা, ‘‘এখন থেকে যত দিন না-পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন বা তাঁকে সরানো হচ্ছে, প্রতি দিন যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল বার হবে।’’ তার পরেই ওই সিজেপি নেতা জানান, তাঁরা আরও ‘শক্তিশালী’ হয়ে আবার রবিবার রাস্তায় নামবেন। এ-ও দাবি করেন, এই প্রতিবাদ আন্দোলনে ভয় পেয়ে রাজধানী অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এ ভাবে সিজেপি-র আন্দোলন দমানো যাবে না। শনিবারের কর্মসূচিকে ‘অর্ধজয়’ বলে অভিহিত করেছে সিজেপি। অজিঙ্কের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন এসএফআই, আইসার নেতৃত্ব। এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রবিবার থেকে এই ছাত্রবিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে। সর্বত্রই শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভ দেখানো হবে। আর যেখানেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকাবে, সেই এলাকাই ‘যন্তর মন্তর’ হয়ে উঠবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।
- সিজেপির কর্মসূচিকে মাথায় রেখে শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ।
-
শেষমুহূর্তে স্থগিত জ্ঞানেশের অপসারণে ‘নকল সংসদ’! নাম ও পদ্ধতি পাল্টেছিল আগেই, নেপথ্যে কোন কোন কারণ?
-
ছাড়া পেলেন আইসা নেত্রী নেহা, এখনও ‘অজানা’ জায়গায় আটক সিজেপি প্রধান দিপকে, দাবি সঙ্গীদের
-
তেরঙা যাত্রার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েই আটক দিপকে! যন্তর মন্তরের কাছ থেকে নেহাকেও আটক করল দিল্লি পুলিশ
-
‘তেরঙা যাত্রা বাতিল করুন!’ বাড়ি গিয়ে দিপকেকে নোটিস দিল পুলিশ, তবে নিষেধাজ্ঞা জারি করল না সুপ্রিম কোর্টও
-
বিরোধী ঐক্যের ডাক দিপকের! তেরঙা অভিযান নিয়ে হুঁশিয়ারি দিল্লি পুলিশের, মার্কিন নাগরিক ইমরানকে দেশ ছাড়ার নোটিস