Advertisement
E-Paper

গেট টপকে বন্ধ যন্তর মন্তরে ঢুকে আটক সিজেপির সৌরভ, আশুতোষেরা! এফআইআর দায়ের করতে পারে দিল্লি পুলিশ

সোমবারই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা দিয়েছে ওই মন্ত্রকেরই অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫৭
(বাঁ দিকে) ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই

সিজেপির দুই শীর্ষনেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে ফের আটক করল দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে গেট টপকে বন্ধ যন্তর মন্তরের ভিতরে ঢুকে পড়েন তাঁরা। ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কয়েক জন সিজেপি সমর্থকও। আশুতোষ এবং সৌরভের পাশাপাশি তাঁদেরও আটক করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, আইনভঙ্গ করার অভিযোগে সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হতে পারে।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে যেখানে নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ-এর কার্যালয় আছে, সেই দিকের গেট টপকে যন্তর মন্তরে ঢোকেন সিজেপি নেতারা। সৌরভ, আশুতোষদের সঙ্গে আটক করা হয় সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্দেকেও।

সোমবারই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা দিয়েছে ওই মন্ত্রকেরই অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরের বদলে রাজধানীর তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ, পূর্ব দিল্লির সিবিডি। এ বার থেকে ওই তিন জায়গায় কর্মসূচি পালন করা যাবে।

ঘটনাচক্রে, সোমবারই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য অনুমতি চেয়ে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান সৌরভ, আশুতোষেরা। পুলিশের তরফে অনুমতি না-দেওয়া হলে ফের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিজেপি নেতৃত্ব। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ হওয়ার পরেই সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রধান অভিজীৎ দিপকে সমাজমাধ্যমে লেখেন, “যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ করতে দেবে না ওরা। এটা এখন আর প্রতিবাদস্থল নয়। ভিতু একনায়কের কারণে তা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হবে।’’ তার পরের দিনই বন্ধ যন্তর মন্তরে ঢুকে আটক হলেন সিজেপি-র যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ এবং আশুতোষ।

ভোটপ্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে অবস্থানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। এই কর্মসূচির আগেই দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আন্দোলনকারীরা যাতে জমায়েতে যোগ দিতে না-পারেন, তার জন্য দিল্লিমুখী ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয়। বন্ধ করা হয় দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন।

শনিবার আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেয়নি পুলিশ। যেখানেই জমায়েতের চেষ্টা হয়েছে, সেখানেই চলেছে পুলিশি ধরপাকড়। তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আটকশিবিরে। শনিবারের ওই ধরপাকড়কে ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গাঁধীর আমলের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে সিজেপি। সাংবাদিক বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেও আক্রমণ শানান সৌরভ এবং আশুতোষ। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘আসল দেশদ্রোহী’ বলেও কটাক্ষ করেন ‘ককরোচেরা’। জ্ঞানেশকে ‘বাঁচাতে’ বিজেপি কেন এত ‘তৎপর’, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিজেপি নেতৃত্ব।

কেন ‘ককরোচদের’ কর্মসূচিতে অনুমতি দেওয়া হয়নি, রবিবার তা নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেন দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) নেহা যাদব। এর আগে নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে গত জুলাইয়ে যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ করেছিল সিজেপি। সে প্রসঙ্গ টেনে ডেপুটি কমিশনার জানান, গত জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে অবস্থান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল সিজেপি-কে। কিন্তু সে সময় আন্দোলনকারীরা আইন মেনে কাজ করেননি বলে দাবি তাঁর। দিল্লি পুলিশের ডিসির কথায়, “এর আগে যখন অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা আইন মানেননি। তাঁদের জমায়েতে থাকা অনেকে পাথর ছুড়েছিলেন, অস্ত্র এনেছিলেন। এর ফলে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছিল।” এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উদ্যোক্তাদের নিয়ম না-মানার নজির মাথায় রেখেই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

চলতি বছর, ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। সোমবার সেই নির্দেশিকায় বদল আনল অমিত শাহের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। ১১ অক্টোবর, রবিবার দিল্লি পুলিশের তরফে এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়। যদিও তা প্রকাশ্যে এসেছে সোমবার। যন্তর মন্তরের কাছে রয়েছে বেশ কিছু সরকারি দফতর। মনে করা হচ্ছে, তার আশপাশে যাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি না হয়, তাই এই পদক্ষেপ।

মাস কয়েক আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে যন্তর মন্তরে অবস্থান শুরু করেছিল সিজেপি। নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে ছিল সেই প্রতিবাদ। ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রধান। এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি।

সংক্ষেপে
  • মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।
  • সিজেপির কর্মসূচিকে মাথায় রেখে শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ।
Saurav Das Ashutosh Ranka Cockroach Janta Party Delhi Police Jantar Mantar

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy