Advertisement
E-Paper

জেলমুক্তি সৌরভ-রাঙ্কার, ছাড়া পেলেন সাত দিন পর! কেন গেট টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকেছিলেন, প্রশ্ন তুলেছিল দিল্লি হাই কোর্ট

যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে সেখানে যাবতীয় আন্দোলন কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পরে গত ১৩ অক্টোবর লোহার গেট টপকে সেখানে ঢুকেছিলেন রাঙ্কা, সৌরভেরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১২
জেলমুক্তির পর আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস।

জেলমুক্তির পর আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। ছবি: রয়টার্স।

অবশেষে জেলমুক্তি হল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই শীর্ষনেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার। বুধবার দিল্লির স্পেশ্যাল এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়েছিল সৌরভদের। তিনি দুই শীর্ষনেতাকে মুক্তি দিয়েছেন।

যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে সেখানে যাবতীয় আন্দোলন কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পরে গত ১৩ অক্টোবর লোহার গেট টপকে সেখানে ঢুকেছিলেন রাঙ্কা, সৌরভেরা। তাঁদের সঙ্গে সিজেপির অন্যতম নেতা অজিঙ্ক শিন্দে এবং আরও ১১ জন ছিলেন। সকলকে আটক করে পুলিশ। শিন্দে-সহ বাকিদের পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও সৌরভদের গ্রেফতার করা হয়।

১৪ অক্টোবর স্পেশ্যাল এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁদের হাজির করানো হলে তিনি পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। সেই থেকে তিহাড় জেলে ছিলেন সৌরভেরা। পাঁচ দিন পর আবার তাঁদের স্পেশ্যাল এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হলে জেল হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। বুধবার সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আদালতে হাজির করানো হয়েছিল সৌরভদের। সওয়াল-জবাব শেষে স্পেশ্যাল এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দুই ককরোচ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই ককরোচ নেতা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছেন, কোনও ভাবেই তাঁরা শান্তিভঙ্গ করবেন না। শুধু তা-ই নয়, সরকার যত দিন পর্যন্ত যন্তর মন্তরের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে, তত দিন ওই এলাকায় কোনও কর্মসূচির ডাকও দেবেন না তাঁরা।

স্পেশ্যাল এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া জেল হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিজেপি। বুধবারের শুনানিতে দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ প্রশ্ন তোলেন, যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরকার বাদ দিয়ে দেওয়ার পরেও কেন সেখানে ঢুকেছিলেন সৌরভেরা? সিজেপি নেতাদের আচরণের জন্য ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি। অন্যান্য দেশে ছাত্রবিক্ষোভ থেকে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের অশান্তি দানা বেঁধেছে, কী ভাবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছে, তা-ও উল্লেখ করেছেন তিনি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যে কোনও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতির উদ্দেশ্য শুধু বিক্ষোভকারীদের আটকানো নয়, বরং অন্যদেরও আটকানো। যাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অন্যেরা যোগ দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন।

সৌরভদের উদ্দেশে বিচারপতি প্রসাদ প্রশ্ন করেন, ‘‘আপনারা একটা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই আপনারাই যখন ব্যারিকেড ভাঙছেন, আপনাদের সমর্থক এবং অনুগামীরাও তা করতে পারেন। সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়। এমনও লোকজন সেখানে থাকতে পারেন, যাঁরা আপনাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তখন কী ভাবে সামলাবেন?’’

শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তেই আগে রাঙ্কা, সৌরভ এবং সিজেপি প্রধান অভিজীত দিপকে-কে জামিন দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, সেই শর্ত ভঙ্গ করে গেট টপকে ‘নিষিদ্ধ’ যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েছিলেন সৌরভেরা। বুধবার দিল্লি হাই কোর্ট সেই নিয়েও প্রশ্ন তোলে, কেন তাঁরা শর্ত লঙ্ঘন করেছিলেন? রাঙ্কারা যে ‘জেন জ়ি’ (এটি আদতে মার্কিন বিপণন সংস্থার তৈরি করা সংজ্ঞা, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মানো প্রজন্মকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়) নন, তা মনে করিয়ে দিয়ে বিচারপতি প্রসাদের মন্তব্য, ‘‘প্রথমে এটা ছাত্রবিক্ষোভ ছিল। তরুণরা যোগ দিয়েছিলেন। এখন তা অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। মানুষগুলো একই আছে, কারণ পাল্টে গিয়েছে।’’

পরে সিজেপি দিল্লি হাই কোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই তাঁদের মুক্তি দিল দিল্লির আদালত।

CJP Cockroach Janta Party

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy