বিরোধীদের তোলা প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তাঁদের উদ্দেশে কুকথা বর্ষণের অভিযোগ উঠল মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফডণবীসের বিরুদ্ধে। যার জেরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মরাঠা রাজনীতিতে। বিরোধী জোট মহাবিকাশ অঘাড়ীর শরিক কংগ্রেস এবং উদ্ধবসেনার পাশাপাশি ফডণবীসের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)-র প্রধান রাজ ঠাকরেও!
দিন কয়েকের বৃষ্টিতেই ধস নেমেছে মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ের ‘মিসিং লিঙ্ক’ করিডরের একাধিক স্থানে। ১৮ ঘণ্টারও বেশি বন্ধ রাখতে হয়েছে যান চলাচল। অথচ চলতি বছরই ফডণবীস তাঁর এই ‘স্বপ্নের প্রকল্পের’ উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু প্রথম বৃষ্টিতেই করিডরের এমন বেহাল দশা নিয়ে বিজেপি সরকারের সমালোচনায় সরব হয় বিরোধীরা। তা নিয়ে বিধানসভায় প্রশ্নও তোলেন তাঁরা। কিন্তু জবাবি বক্ততায় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী অপশব্দ প্রয়োগ করেছেন বলেন অভিযোগ। বিরোধী বিধায়কদের উদ্দেশে ‘মিথ্যাবাদী’, ‘দেশদ্রোহী’, ‘ভাড়াটে টাট্টু’র মতো বাছা বাছা শব্দ প্রয়োগের পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ‘‘আপনাদের কথা এখন কুকুরও শোনে না। সমাজমাধ্যমই এখন আপনাদের একমাত্র ভরসা।’’
আরও পড়ুন:
কংগ্রেস এবং উদ্ধবসেনার অভিযোগ, প্রায় ৭০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘মিসিং লিঙ্ক’ করিডরে নানা প্রযুক্তিগত ফাঁক রয়েছে। কিন্তু সেই ভুল-ত্রুটি নিয়ে জবাব না দিয়ে সমালোচকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার বিধানসভায় বিরোধী বেঞ্চের দিকে নিশানা করে বলেছেন, ‘‘এদের আচরণ দেখলে মনে হয়, এক কোটি মিথ্যাবাদীর মৃত্যুর পর জন্ম নিয়েছে।’’ এমনকি, বিজেপি-শিন্দেসেনা-এনসিপি (অজিত) জোটের সরকার সমালোচকদের রেয়াত করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন ফডণবীস! অভিযোগ তোলেন, বিরোধীরা পরিকল্পিত ভাবে মহারাষ্ট্রের বদনাম করছে। এমএনএস প্রধান রাজ শুক্রবার সরাসরি এ নিয়ে নিশানা করেন ফডণবীসকে। তিনি বলেন, ‘‘মিসিং লিঙ্কের মতো প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলা কী ভাবে মহারাষ্ট্রকে অপমান করা হয়? সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম হলে বিরোধীরা কি চুপ থাকবে? আপনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কিছু বললেই তা দেশদ্রোহিতা!’’ অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী চুরির প্রসঙ্গ তুলেও বিজেপিকে নিশানা করেন রাজ। অন্য দিকে, উদ্ধবসেনার নেতা সঞ্জয় রাউত সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘দেবেন্দ্র ফড়ণবীস কি মহারাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন? সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি, লুটপাট, গণপিটুনি চললেও মানুষ তা নিয়ে কোনও কথা বলতে পারছে না।’’