কী কারণে সিজেপি-কে দিল্লিতে ধর্নায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি, সাংবাদিক বৈঠক করে তা জানাল দিল্লি পুলিশ। বিকেলে দিল্লির ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) নেহা যাদব জানান, গত জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে অবস্থান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-কে। কিন্তু সেই সময় তারা আইন মেনে কাজ করেনি বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের ডিসি বলেন, “এর আগে যখন (কর্মসূচির জন্য) অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তারা (সিজেপি) আইন মানেনি। তাদের জমায়েতে থাকা অনেকে পাথর ছুড়েছিলেন, অস্ত্র এনেছিলেন। এর ফলে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছিল।” দিল্লি পুলিশের এই আধিকারিক জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, উদ্যোক্তাদের নিয়ম না-মানার নজির স্মরণে রেখে ধর্নার বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
দিল্লি পুলিশের তরফে এ-ও জানানো হয়েছে যে, দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ১৩৩ ধারা জারি রয়েছে। ফলে অনুমতি ছাড়া রাজধানীর এই সমস্ত জায়গায় জমায়েত করা বা বিক্ষোভ দেখানো যাবে না। সিজেপি-র তিন শীর্ষনেতাকে আটক করার প্রসঙ্গে দিল্লির ডিসি নেহা বলেন, “অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর দুই সঙ্গী (আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস) ১০ অক্টোবর আটক হন। তাঁরা জনপথ এলাকায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই কর্মসূচির জন্য কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
শনিবার দীপকে-র ঠাকুমা মারা যান। সিজেপি-র অভিযোগ, সংবেদনশীলতার সঙ্গে সেই খবর দীপকে-কে জানানো হয়নি। একই অভিযোগ করে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার পরিবারও। সেই অভিযোগ খণ্ডন করে রবিবার দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দুঃসংবাদ পাওয়ার পরেই দীপকে-কে তা জানানো হয়। তাঁর কোনও সাহায্য লাগবে কি না, সংবেদনশীলতার সঙ্গে তা-ও জানানো হয়। বিমানের টিকিট, ফোন কিংবা অন্য কিছু দিয়ে সাহায্য করা হবে কি না জিজ্ঞাসা করা হলে দীপকে সে সব নিতে অস্বীকার করেন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
নিজেদের দাবির সমর্থনে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশ। ওই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, এক পুলিশ আধিকারিক বেঞ্চে বসে থাকা দীপকে-র উদ্দেশে বলছেন, “আপনি যদি কোথাও যেতে চান, আমি তার ব্যবস্থা করে দিতে পারি, সে বাস, বিমান কিংবা অন্য যে কোনও ভাবে হতে পারে। ওই ভিডিয়োয় দেখা যায়, পুলিশ আধিকারিক দীপক-কে বলছেন, “আপনি চাইলে আমার ফোন থেকে বাড়ির লোকেদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।” জবাবে দীপকে বলেন, “না, সেটা সম্ভব নয়। আমি বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারব না।”