অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের জীবনরক্ষায় যা প্রয়োজন, তা-ই করতে হবে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রকে এমনই নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চের নির্দেশ, সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে প্রতিদিন ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে হবে। চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে যদি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে, তা হলে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ করতে হবে কেন্দ্রকে। দুই বিচারপতির বেঞ্চের মৌখিক পর্যবেক্ষণ, “প্রতিটি জীবন মূল্যবান।”
বৃহস্পতিবার শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে জানান যে, সরকারি চিকিৎসকেরা ইতিমধ্যেই ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করেছেন। তুষারের আশ্বাস, চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনও সহায়তার প্রয়োজন হয়, তা হলে কেন্দ্র তা করবে। তবে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই চলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
টানা অনশনের কারণে শরীর ভাঙছে শিক্ষাবিদ তথা সমাজসৈনিক ওয়াংচুকের। এই পরিস্থিতিতে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা রুজু হয়েছিল বুধবার। বৃহস্পতিবার জরুরি ভিত্তিতে সেই মামলা শোনে উচ্চ আদালত।
নিট কেলেঙ্কারির পরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত ২০ জুন ককরোচ জনতা পার্টি যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ শুরু করে। তার আট দিন পরে ২৮ জুন থেকে সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করেন। বৃহস্পতিবার তাঁর অনশনের ১৯তম দিন। বুধবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন ‘থ্রি ইডিয়টস’-খ্যাত সোনম। ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেন, “আমার শরীর ভাল নয়। তবে খুব খারাপও নয়। এমন অবস্থা নয় যে, দু’-চার দিনেই মরে যাব।”
বুধবার ককরোচ জনতা পার্টির তরফে ওয়াংচুকের মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করে বলা হয়েছে, তাঁর শরীর ‘খুবই দুর্বল’ রয়েছে। ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুকের ওজন এক দিনে ৪০০ গ্রাম কমে ৫৭.১৫ কেজি হয়েছে। অনশনে বসার আগে ওয়াংচুকের ওজন ছিল ৬৬ কেজি। বুধবার তাঁর রক্তচাপ ছিল ১০৫/৭৬। রক্তে শর্করার পরিমাণ ছিল ৮০ মিলিগ্রাম। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭ শতাংশ।
প্রথম দিকে আমজনতার তেমন উৎসাহ না থাকলেও গত কয়েক দিনে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ছড়াতে শুরু করেছে। ভিড়ও বাড়ছে যন্তর মন্তরে। জুলাইয়ে দিল্লির গরম উপেক্ষা করে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ, শিক্ষাবিদেরা ওয়াংচুককে দেখতে আসছেন। নিট-এর প্রশ্ন ফাঁসের পরে দেশ জুড়ে অন্তত ২০ জন ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁদের অন্যতম, দেহরাদূনের রিয়া কুমারী থাপার বাবা-মা বুধবার ফোন করে সোনমের স্বাস্থ্যের খবর নিয়েছেন।