বাবার সঙ্গে দিদির বাড়িতে গিয়েছিল বছর সতেরোর রোহিত সাহেবরাও ধাঙ্গর। দিদির কাছ থেকে রাখিও পরে সে। তার পর বাড়ি ফিরে আসে রোহিত। নিজের ঘরে চলে যায় সে। দিদির সঙ্গে একটি ছবিও পোস্ট করে সমাজমাধ্যমে। ক্যাপশনে লেখা, ‘‘শুভ রাখিবন্ধন দিদি। মা-বাবাকে ভাল রাখিস। আমি চললাম।’’
ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের জলগাঁওয়ের। শুক্রবার বাড়ি থেকে রোহিতের দেহ উদ্ধার হয়। ছেলে কেন আত্মহত্যা করল, তা ভেবে দিশাহারা পরিবার। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত্যুর আগে এক বন্ধুকে ভিডিয়োবার্তা পাঠিয়েছিল রোহিত। তাকে জানায় যে, অনলাইন গেমিংয়ে প্রচুর টাকা দেনা হয়ে গিয়েছে। তাই নিজেকে শেষ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। রোহিতের এই ভিডিয়োবার্তা দেখার পরই সোজা তার বাড়িতে যায় ওই বন্ধু। কিন্তু গিয়ে সে জানতে পারে, রোহিত আত্মহত্যা করেছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, রোহিত আরও একটি লেখা পোস্ট করেছিল। সেখানে সে লিখেছিল, ‘‘যখন আমি আবার ফিরে আসব, সকলের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠব। যে দাগ আমার নামে রয়েছে, সব মুছে ফেলব। তখন আর কাউকে কাঁদতে হবে না।’’ পরিবার সূত্রে খবর, রোহিতের মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়নি গত কয়েক দিন। পরিবারের দাবি, অনলাইন গেমিংয়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তাঁরা জানতেন না। শুধুই কি অনলাইন গেমিংয়ে আর্থিক ক্ষতির কারণে রোহিতের মৃত্যু, না কি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শনিপেঠ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। রোহিতের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, বন্ধুকে পাঠানো বার্তা এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।