প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ক্রমশই বাড়ছে। তার জেরে এ বার ছন্দপতন হতে পারে ভারতের শীত। মৌসম ভবনের খবর, আসন্ন শীতের মরসুমে দেশের বেশির ভাগ জায়গায় সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গড় স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকবে। তার ফলে জাঁকিয়ে শীত পড়ার আশা তেমন নেই। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের এক বিজ্ঞানীর কথায়, ‘‘এ বার শীত তেমন জোরালো হবে না। আগামী বছরের গ্রীষ্ম বরং উষ্ণতর হতে পারে।’’
প্রসঙ্গত, এ বার প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি (এল নিনিয়ো) ১৯৫০ সাল থেকে এ পর্যন্ত সময়কালে অন্যতম মারাত্মক হতে পারে বলে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে। তার ফলেই এর প্রভাব নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল সেলেস্তে সাউলো সম্প্রতি জানিয়েছেন যে এল নিনিয়ো পরিস্থিতি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলবে। ‘‘১৯৫০ সালে থেকে এত দিন পর্যন্ত অন্যতম শক্তিশালী এল নিনিয়ো হবে এটি,’’ বলছেন সাউলো। এখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন আবহবিদেরা। তাঁরা বলছেন, এল নিনিয়ো পরিস্থিতির ফলে সাগর এবং পরিমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়ে। তার ফলে গোটা পরিস্থিতির স্বাভাবিক ছন্দ বিগড়ে যায়। সেই ছন্দ বিগড়ে গেলে যে কোনও ঋতুরই চেনা ছবি বদলে যেতে পারে।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের প্রাক্তন ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গোকুলচন্দ্র দেবনাথের অবশ্য বক্তব্য, ‘‘বর্ষার উপরে এল নিনিয়োর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হয়েছে। কিন্তু শীতের উপরে তার প্রভাব নিয়ে এখনও তেমন গবেষণা চোখে পড়েনি। আসলে শীতের ছন্দপতনের সঙ্গে নানা প্রাকৃতিক পরিস্থিতি জড়িত। তাই সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করাও জটিল।’’ তবে আবহবিদদের অনেকে বলছেন, এল নিনিয়োর বছরগুলিতে দেখা গিয়েছে যে উত্তর-পশ্চিমে বৃষ্টিপাত কম হয়েছে, হিমালয় পার্বত্য এলাকায় তুষারপাত কম হয়েছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ক্ষেত্রেও কিছু চরিত্র বদল হয়েছে। তাতে শীতের চরিত্র বদলেছে। তবে এল নিনিয়ো ছাড়াও অন্যান্য বছরেও এমন ছবি দেখা গিয়েছে। তাই সরাসরি সম্পর্ক এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।
তবে মহা শক্তিশালী এল নিনিয়ো পরিস্থিতির সঙ্গে উষ্ণায়নের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন যে এল নিনিয়ো পরিমণ্ডলে নতুন কোনও উষ্ণতা যোগ করে না। বরং প্রশান্ত মহাসাগর যে পরিমাণ তাপ সঞ্চয় করেছে তা শুধু বিকিরণ করে।