২০২০ সালে দিল্লি-হিংসার ঘটনায় আরও একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন প্রাক্তন আপ কাউন্সিলর তাহির হুসেন। উত্তর-পূর্ব দিল্লির দয়ালপুর এলাকায় অগ্নিসংযোগ সংক্রান্ত মামলায় তাহিরকে দোষী সাব্যস্ত করলেন করকরডুমা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (এএসজে) সমীর বাজপেয়ী। তবে আদালত এই মামলায় নাম জড়ানো আরও ১২ জনকে সব অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস করেছে।
এই নিয়ে ২০২০-র দিল্লি-হিংসায় দ্বিতীয় মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন তাহির। ওই অশান্তির সময় খুন হয়েছিলেন গোয়েন্দা আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা। সেই ঘটনায় নাম জড়ায় তাহিরের। চলতি বছরের জুলাইয়ে ওই মামলায় তাহির-সহ পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। পরে যাবজ্জীবন সাজা শোনান তিনি। সাজা ঘোষণার সময় করকরডুমা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (এএসজে) প্রবীণ সিংহের পর্যবেক্ষণ ছিলেন, ‘‘গোষ্ঠীসংঘর্ষের সময় নৃশংস ভাবে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ওই বর্বরতায় গা গুলিয়ে ওঠে। অসুস্থ লাগে।’’ বিচারক আরও বলেছিলেন, ‘‘পশুর মতো করে দেহ টেনে নিয়ে নর্দমায় ফেলা হয়েছিল।’’ তাঁর কথায়, ‘‘দোষীদের দাবি, তাঁরা তাঁদের পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। সেই আবেদনকে ছাপিয়ে যায় অপরাধের ভয়াবহতা।’’
আরও পড়ুন:
দিল্লি পুলিশের তরফে আদালতে দাবি করা হয়েছিল, তাহির-সহ পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক। অন্য দিকে, তাহিরের আইনজীবীর সওয়াল, ২০২০ সালের ওই খুনের ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম নয়। সেরকম হলে তবেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়। তা ছাড়া জেলে তাঁর মক্কেলের আচরণও যথেষ্ট ভাল ছিল। দুই পক্ষের সওয়াল শুনে বিচারক জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড শেষ পথ। এ ক্ষেত্রে দোষীদের ‘শৃঙ্খলাপরায়ণ’ করা সম্ভব। খুন এবং হিংসা ছড়ানোর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় তাহিরকে।