হড়পা বান এবং ভূমিধসে বিধ্বস্ত নেপালের ছবি দেখে প্রমাদ গুনছে অরুণাচল প্রদেশ। তাদের একেবারে হাতের কাছেই ব্রহ্মপুত্রের উৎস নদীতে চিন একটি প্রকাণ্ড বাঁধ নির্মাণ করছে। বাঁধের ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞেরা উদ্বিগ্ন। যে কোনও দিন সেখানেও বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চিন অধিকৃত তিব্বত প্রদেশের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে বিশ্বের উচ্চতম নদী ইয়ারলং সাংপো। তা থেকেই ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি। ওই নদীর উপর বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে বৃহৎ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। চিন অধিকৃত তিব্বতের মেডোগ এলাকায় যেখানে বাঁধটি তৈরি হচ্ছে, তা অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত থেকে খুব দূরে নয়, মেরেকেটে ৫০ কিলোমিটার। তাতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের কপালে।
আরও পড়ুন:
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০৩৩ সাল থেকে নতুন বাঁধ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বেজিঙের। কিন্তু তিব্বতের মেডোগ এলাকা অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। বিশেষজ্ঞদের দাবি, সক্রিয় ভূকম্পন চ্যুতিরেখার উপর জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করছে চিন। সে দেশের সরকারি ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের গবেষণাতেও তা বলা হয়েছিল গত জুলাই মাসে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিপর্যয় ঘনিয়ে আসতে পারে অরুণাচল সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায়। ভূমিকম্প হতে পারে আরও ঘন ঘন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ চিনের বাঁধটিকে ‘জলবোমা’ বলেও উল্লেখ করছেন।
বিপদ একটি নয়। চিনে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র সক্রিয় হলে ভারতে আরও কিছু সমস্যা হতে পারে। ওই বাঁধের মাধ্যমে ইয়ারলং সাংপোর জল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বেজিং। বর্ষায় আচমকা জল ছাড়লে অরুণাচল প্রদেশ, অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আবার, সময়বিশেষে তারা জল আটকে দিলে ভারতের ওই অংশে জলের সঙ্কটও অসম্ভব নয়। ফলে এই বাঁধকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে ভারত এবং চিনের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে বাঁধটিকে ব্যবহার করতে পারবে তারা।
বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে আচমকা হড়পা বান আসে। নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৮৯। নিখোঁজ ৮০০-র বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে শতাধিক ভারতীয় রয়েছেন। তাঁরা সকলেই কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়েছিলেন। রিপোর্টে দাবি, হড়পা বানের ধাক্কায় প্রায় ২০০০ মিটার উচ্চতা থেকে কাদামাটি-সহ জল ছুটে আসে লোকালয়ের দিকে। গ্রামের পর গ্রাম, ঘরবাড়ি, মানুষজন, রাস্তাঘাট, সেতু ভেসে যায় খড়কুটোর মতো। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত সরকার এই বিপর্যয়ে নেপালের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। ত্রাণসামগ্রী, উদ্ধারকাজে সাহায্যকারীদেরও সেখানে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্সের রিপোর্ট বলছে, নেপালে বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে কোনও বড়সড় তুষারধস থেকে। ভূতাত্ত্বিক ড্যানিয়েল শুগারের বক্তব্য, ‘‘২০০০ ফুট চওড়া বরফের একটি বিশাল খণ্ড ওই অংশের হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।’’ তা থেকে হড়পা বানের উৎপত্তি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ত্রাণ যেমন পাঠানো হচ্ছে, তেমনই আর্থিক সাহায্যও পাঠানো হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
- বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে অনেকেই। বিভিন্ন সংস্থা তো বটেই, ব্যক্তিবিশেষও সাহায্য পাঠাচ্ছেন নেপালে।
- হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ল। এখনও নিখোঁজ দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
-
নিজের এক মাসের বেতন একটি পরিবারকে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী! নেপালে নিখোঁজদের পরিজনকে সব রকম সহায়তারও আশ্বাস
-
চিনে নিরাপদ শিবিরে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকেরা? নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ ৩৭ জনের সন্ধানে নবান্নের দ্বারস্থ পরিবার
-
নিখোঁজদের পরিবারকে ডিএনএ নমুনা দিয়ে যেতে বলল কেন্দ্র! গভীর রাতে তিব্বতে ভূমিকম্প, কাঁপল নেপালও
-
হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে খামার, ক্ষতিগ্রস্ত চাষজমি, সব হারিয়ে দিশাহারা নেপালের কৃষকেরা
-
নেপালের হড়পা বানে অনিশ্চিত চিনের স্বপ্নের প্রকল্প, রেলপথে নেপাল এবং তিব্বতকে আর জোড়া যাবে কি? সংশয়ে বেজিং