Advertisement
E-Paper

ইস্তফার পর নিজের রাজ্য ওড়িশায় ফিরেও ‘বীরের অভ্যর্থনা’ পেলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান! ‘লজ্জাজনক’ বলল কংগ্রেস

সোমবার সংসদচত্বরে গাড়ি থেকে নামতেই ধর্মেন্দ্রকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। তাঁকে স্বাগত জানান বিজেপির বেশ কয়েক জন সাংসদ। তাঁর মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়। ‘প্রধান জ়িন্দাবাদ’ স্লোগানও ওঠে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ১৭:১৬
ভুবনেশ্বর বিমানবন্দর থেকে বেরোচ্ছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মঙ্গলবার।

ভুবনেশ্বর বিমানবন্দর থেকে বেরোচ্ছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মঙ্গলবার। ছবি: পিটিআই।

মন্ত্রিত্বে ইস্তফা দেওয়ার পর সোমবার প্রথম সংসদে গিয়েই ‘বীরের অভ্যর্থনা’ পেয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। মঙ্গলবার তিনি নিজের রাজ্য ওড়িশায় ফেরেন। প্রাক্তন মন্ত্রী ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরে নামার পরেই তাঁকে স্বাগত জানান বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী-সমর্থক। ধর্মেন্দ্রের গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, ধর্মেন্দ্র ওড়িশার ভূমিপুত্র, সে রাজ্যের সম্বলপুর কেন্দ্রের সাংসদ তিনি।

সোমবার সংসদচত্বরে গাড়ি থেকে নামতেই ধর্মেন্দ্রকে প্রায় একই কায়দায় স্বাগত জানানো হয়েছিল। তাঁকে স্বাগত জানান বিজেপির বেশ কয়েক জন সাংসদ। তাঁর মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়। ‘প্রধান জ়িন্দাবাদ’ স্লোগানও ওঠে। দলীয় সহকর্মীরাই ধর্মেন্দ্রকে সংসদের ভিতরে নিয়ে যান।

পদত্যাগী মন্ত্রী ধর্মেন্দ্রকে এই বীরের অভ্যর্থনা দেওয়ার বিষয়টিকে লজ্জাজনক বলে তোপ দেগেছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা সংসদে ঢোকার আগে বলেন, “এটা কি লজ্জাজনক নয়? কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে (ধর্মেন্দ্র) পদত্যাগ করতে হয়েছিল, সেটা ভাবুন। তাঁকে এমন করে স্বাগত জানানো হচ্ছে, যেন কোনও সুপারস্টার এসেছেন। এই সরকারকে কেউই বিশ্বাস করতে পারবে না।”

লোকসভায় বক্তৃতা করতে উঠে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈও ধর্মেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন। বলেন, “যে মন্ত্রীর (ধর্মেন্দ্র) আমলে ২১ জন বাচ্চা তাদের জীবন হারাল, তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু কাল (সোমবার) তিনি যখন সংসদে আসেন, তখন তাঁকে এমন করে মালা পরানো হয়, যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ফিরেছেন।”

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, ধর্মেন্দ্রকে এই ভাবে স্বাগত জানিয়ে বিজেপি একটি বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে। তা হল, রাজনৈতিক কারণে ইস্তফা দিতে হলেও, দল সম্পূর্ণ ভাবে ধর্মেন্দ্রর পাশে রয়েছে। চাপে পড়ে মন্ত্রিত্ব থেকে সরাতে হলেও দলের তাঁর উপরে সম্পূর্ণ ভরসা রয়েছে।

নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বলা হয়েছিল, মন্ত্রীর ইস্তফা ছাড়া কোনও শর্তেই তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবে না। এ বিষয়ে কোনও বোঝাপড়া চলবে না। দুর্নীতির দায় মন্ত্রীকে নিতে হবে। শনিবার সিজেপি-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার আগে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান দেশের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন প্রহ্লাদ জোশী।

ইস্তফার কথা ঘোষণা করে শনিবার দুপুরে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন ধর্মেন্দ্র। জানান, গত ১০ দিনের ঘটনায় তিনি দুঃখিত। ধর্মেন্দ্র লেখেন, ‘‘ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষার সংস্কারে গত চার দশক ধরে আমি নিজেকে নিবেদন করে এসেছি। সবসময় বিশ্বাস করেছি, শক্তিশালী, দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে। দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি, ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশাকে আমি গভীর ভাবে শ্রদ্ধা করি। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা আমাদের সকলের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গীকার। দেশের সেবা করার সুযোগ আমি পেয়েছি, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।’’

দেশের স্বার্থে ও সর্বোপরি দলের বৃহত্তর স্বার্থরক্ষায় ধর্মেন্দ্র নিজেকে যূপকাষ্ঠে সঁপে দিয়েছেন— এই বার্তা দিয়ে সে দিন বিকাল থেকেই সরব হয় বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ, সকলেই ধর্মেন্দ্রের সমর্থনে সমাজমাধ্যমে মুখ খোলেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে ধর্মেন্দ্র প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য না করলেও গত শনিবার রাতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাড়িতে যান অমিত শাহ। রাত পৌনে বারোটা নাগাদ ধর্মেন্দ্রর সমর্থনে সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেন তিনি।

Dharmendra Pradhan Cockroach Janata Party Congress

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy