আবার উত্তপ্ত মণিপুর। কামজং জেলায় এক মহিলাকে গুলি করে খুন করা অভিযোগ উঠেছে। তার পরেই সেখানে নতুন করে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। মোতায়েন করেছে নিরাপত্তা রক্ষী।
মণিপুরের কামজং জেলায় নাগাদের বাস বেশি। সেখানকার কুকি অধ্যুষিত চাসাদ গ্রামে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ গুলি লাগে ডমখোনেই টৌথাং নামে এক মহিলার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলার গলায় গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই মারা যান পাঁচ সন্তানের মা দমখোনেই। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তার পরেই ওই গ্রামে গুলি বিনিময় শুরু হয়। বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই খুন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কুকি সম্প্রদায়ের মানুষজন।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি সামাল দিতে চাসাদ পুলিশ গেটের চারপাশে ৪০০ মিটার এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬২ ধারা জারি করা হয়েছে। সেই আইন অনুসারে, ওই জায়গায় পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষ জড়ো হতে পারবেন না। পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম জারি থাকবে। জেলায় পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের জন্য সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক।
১৩ সেপ্টেম্বর দুটি পৃথক হামলায় চার কুকি-জো সম্প্রদায়ের মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এর পরেও হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৯২ সাল থেকে মণিপুরে কুকি ও নাগা জনজাতির মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, সেই সংঘাতে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই ও কুকিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই সংঘাতে ২৬০-রও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সংঘাত শুরুর প্রায় ২১ মাস পরে, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মণিপুরের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ পদত্যাগ করেন। এর চার দিন পরে, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। প্রায় এক বছর পর ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করে বিজেপির ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়।