সোমবার থেকেই তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ। গুরুগ্রাম পুলিশের তিনটি দল আলাদা আলাদা ভাবে তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছিল। অভিযান চলে ভিন্রাজ্যেও। অবশেষে ধরা পড়লেন তরুণী বাইকারকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়া গাড়িচালক কল্যাণ বইঁসলা। রাজস্থান থেকে তাঁকে আটক করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ।
রবিবার গুরুগ্রামের গল্ফ কোর্স রোডে একটি সাদা রঙের সিডান গাড়ি ধাক্কা মারে বাইকার ‘সিয়া’কে (তরুণীর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলের নাম ‘রেবেল হুইল্স সিয়া’)। গাড়ির ধাক্কায় নিজের এপ্রিলিয়া আরএস ৪৫৭ স্পোর্টস বাইক থেকে রাস্তায় আছড়ে পড়েন সিয়া। রাস্তার উপর ঘষতে ঘষতে আরও কিছুটা সামনের দিকে এগিয়ে যায় বাইকটি। সংঘর্ষের অভিঘাতে বাইক থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গও বেরোতে থাকে। বাইকের সামনে লাগানো ক্যামেরায় ধরা পড়ে গোটা দৃশ্য। শরীরে বাইক আরোহীর বিশেষ বর্ম থাকায় বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচেছেন সিয়া।
সোমবার সকালে ওই দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেন কর্তৃপক্ষ। গুরুগ্রাম পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে। অভিযুক্ত গাড়িচালক কল্যাণকে শনাক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে। প্রাথমিক ভাবে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো এবং জখম করার অভিযোগে এফআইআর রুজু হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে তাতে যুক্ত হয় খুনের চেষ্টার ধারাও। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে অভিযুক্তের।
আরও পড়ুন:
দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত কল্যাণের কোনও খোঁজ পাচ্ছিল না পুলিশ। যদিও অজ্ঞাত এক স্থান থেকে তিনি নিজের প্রতিক্রিয়া জানান সংবাদমাধ্যমে। কল্যাণের দাবি, তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে গাড়িতে ধাক্কা মারেননি। দুর্ঘটনার সময়ে গাড়িতে তিনি, তাঁর বোন এবং দুই তুতো ভাই ছিলেন বলে দাবি অভিযুক্তের। তরুণীকে ধাক্কা মারার পরে সেখানে গাড়ি দাঁড় করালে গণপিটুনির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছিলেন তিনি। তাই গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন কল্যাণ।