তামাক বা গুটখা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একটি দলকে অনেক দিন ধরেই খুঁজছিল পুলিশ। বেশ কয়েক বার তাদের ডেরার হদিস পেয়েও পাকড়াও করা সম্ভব হয়নি। অবশেষ সেই দলকে ধরতে সক্ষম হল তামিলনাড়ু পুলিশ। তবে সেই অভিযান ঘিরে ছিল রুদ্ধশ্বাস নাটক! প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ধাওয়া করে গাড়িটির নাগাল পায় পুলিশ। তবে পুলিশের তাড়া খেয়ে ওই চোরাচালানকারী দলটি গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়। ধাওয়া করে পুলিশ। শেষপর্যন্ত এক পুলিশ কর্মী লাফ দিয়ে গাড়ির মাথায় উঠে পড়েন। ধরা পড়ে গোটা দলটি।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে দাবি, ৩০০ কেজি গুটখা-সহ নিষিদ্ধ তামাকজাত পণ্য ওই গাড়িতে বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছিল বলে খবর ছিল পুলিশের কাছে। ওই দলটির উপর অনেক দিন ধরেই নজর ছিল পুলিশের। তামিলনাড়ুর কোয়ম্বত্তূরের কাছে নাকা চেকিংয়ের সময় ওই গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা।
পুলিশের দাবি, গাড়িটিকে যখন নাকা চেকিংয়ের সময় দাঁড় করানো হয়, তখন পিছনের দিকে বেশ কয়েকটি বস্তা নজরে আসে। ওই গাড়িটিতে চালক ছাড়াও দু’জন ছিলেন। দায়িত্বে থাকা এক জন সাব-ইনস্পেক্টর ওই বস্তাগুলি পরীক্ষা করতে চান। তখনই চালক গাড়ি চালু করে দেন। পুলিশকর্মীদের ধাক্কা মেরে গতি বাড়িয়ে দেয় গাড়িটি। সময় নষ্ট না-করে পুলিশও গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে তাদের।
হেড কনস্টেবল ভেলমুরুগান সাহসিকতার পরিচয় দেন। সাত-পাঁচ না-ভেবে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন গাড়ির মাথায়। ওই অবস্থাতেই গাড়ি ছুটতে থাকে। পিছনে ধাওয়া করে পুলিশের গাড়িও। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত গতিতে কোয়ম্বত্তূরের কয়েকটি টোল প্লাজা পেরোয়।
আরও পড়ুন:
এই অভিযানের খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা তিরুপুরের পুলিশও ওই গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার ধরে এ ভাবে পুলিশ এবং চোরাচালানকারীদের মধ্যে রেষারেষি চলে। শেষে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি এবং অ্যাম্বুল্যান্স ঘিরে ফেলে চোরাচালানকারীদের ওই গাড়টিকে।
গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গেই দু’জন পুলিশের জাল কেটে পালিয়ে যায়। ধরা পড়েন চালক। পরে বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। ধরা পড়ে যান ওই দুই অভিযুক্তও। ধৃতদের বয়স ২০ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। তাঁরা হলেন বাবু ধারা, সুরেশ এবং রাজেশ। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান চলছে। জেরার সময় ধৃতেরা পুলিশকে জানান, ওই তামাকজাত পণ্যগুলি বেঙ্গালুরু থেকে কোয়ম্বত্তূরে পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন।