সেপ্টেম্বরেও বৃষ্টির বিরাম নেই। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলছে বর্ষণ। কোথাও ভারী, আবার কোথাও মাঝারি। গত ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর, মধ্য এবং পূর্ব ভারতে প্রবল বৃষ্টিতে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। শুধু তা-ই নয়, বৃষ্টির কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে প্রশাসন।
উত্তরপ্রদেশ
গত ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার অতিভারী বৃষ্টিতে বিপর্যয় ঘটেছে। গত দু’দিনে শুধু উত্তরপ্রদেশেই ১৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। রাজ্যের ত্রাণ তহবিল বিভাগের কমিশনার ভাস্কর যশোদার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে ৬৩টিতে স্বাভাবিকের থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে বৃষ্টির পরিমাণ।
অমেঠী, বস্তী, ফতেহপুর, হামিরপুর, হারদোই, বরাবাঁকি এবং কানপুর নগর এলাকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় দুর্যোগের কারণে এক জন করে বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। অযোধ্যায় দু’জন, লখিমপুর খেরিতে চার জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এ ছাড়াও, বাহরাইচে দেওয়াল ধসে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও রাজ্য জুড়ে আরও তিন জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে চাষাবাদ। কৃষিজমিতে জল জমে রয়েছে।
ওড়িশা
উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও ওড়িশাও ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত। গত ৪৮ ঘণ্টায় ওড়িশায় দুর্যোগের কারণে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওড়িশার দক্ষিণপ্রান্ত। শুধু তা-ই নয়, কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে ওড়িশার সরকার।
আরও পড়ুন:
বিহার
নেপাল এবং সংলগ্ন অববাহিকা অঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে বিহারেও। অতিবৃষ্টির কারণে বাল্মীকিনগর জলাধার থেকে ক্রমাগত জল ছাড়া হচ্ছে। আর সেই কারণে গণ্ডক নদীর জলস্তর বেড়েই চলেছে। কোথাও কোথাও নদীর জল পার উপচে ঢুকে পড়েছে গ্রামে। বাড়িঘর ডুবে গিয়েছে। শুধু জল ছাড়ার কারণে নয়, বৃষ্টিও নদীর জলস্ফীতির অন্যতম কারণ।
ছত্তীসগঢ়
বিহারের পাশাপাশি ছত্তীসগঢ়ও প্রবল বর্ষণের সাক্ষী। অতিবৃষ্টির কারণে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে রয়েছে। বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থাও। প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টির করণে আটটি জেলায় স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কোণ্ডাগাঁও জেলায় জলমগ্ন ধানজমিতে মাছ ধরতে নেমে নালায় পড়ে যান ৪০ বছর বয়সি এক যুবক। আর উঠতে পারেননি। জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
দেশের কিছু অংশে যখন টানা বৃষ্টি আর তার জেরে বিপর্যয় হয়ে চলেছে, তখন মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় গোটা মরসুম ধরে ঘাটতি রয়েছে। একটু আধটু নয়, অমরাবতী, সোলাপুর, লাতুর-সহ অন্তত ছয় জেলায় গোটা বর্ষার মরসুমে বৃষ্টির ঘাটতির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। শনিবার মহারাষ্ট্র সরকার রাজ্যের ৩৫৮টি তহসিলের মধ্যে ২৬৫টিকে খরাকবলিত বলে ঘোষণা করেছে।