বিপজ্জনক বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে তা নিয়ে প্রশিক্ষণ থাকে পাইলটদের। প্ল্যান ‘এ’ ব্যর্থ হলে প্ল্যান ‘বি’ প্রস্তুত থাকে পাইলটদের। কিন্তু ফ্লাইদুবাইয়ের আহত ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের কাছে প্ল্যান ‘সি’-ও প্রস্তুত থাকে। আর এটাই ওঁর বিশেষ গুণ বা দক্ষতা। ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডে বন্ধু স্মিতকে নিয়ে এমনই দাবি করলেন আর এক পাইলট তথা ব্যাচমেট ধবল পটেল।
আহত হয়েও ওই মুহূর্তে স্কোয়াক কোড পাঠানোয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিকেও অভূতপূর্ব বলে দাবি করেছেন পটেল। আহত হয়েও ওই পরিস্থিতিতে ককপিটের দরজা খুলে দেওয়াও ওঁর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও এক দৃষ্টান্ত। বাণিজ্যিক বিমান ওড়ানোয় ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে স্মিতের। ২০২২ সাল থেকে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। চাকরি করেছেন স্পাইসজেটেও।
এনডিটিভি-কে ধবল জানিয়েছেন, নিউ জ়িল্যান্ডের মেনল্যান্ড এয়ার নামক সংস্থায় একসঙ্গে দু’জনে প্রশিক্ষণ নেন তাঁরা। পটেলের কথায়, ‘‘ফার্স্ট অফিসার হিসেবে স্পাই জেট সংস্থায় যোগ দেয় স্মিত। খুবই প্রতিভাবান ছেলে। দক্ষতার জোরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্যাপ্টেন হয়েছিল সে। শুধু ক্যাপ্টেন হওয়াই নয়, অন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণেও তাকে নিয়োগ করা হয়েছিল। ওর হাতে অনেক পাইলট তৈরি হয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
নিজের পেশা নিয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান স্মিত। কোথায় কখন কোন পরিস্থিতিতে কী ভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই গুণই তাঁকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন পটেল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন তিনি। পটেলের দাবি, সবাই যখন প্ল্যান ‘বি’ নিয়ে ভাবেন, স্মিতের কাছে কিন্তু প্ল্যান ‘সি’-ও প্রস্তুত থাকত। পটেলের কথায়, ‘‘ওর সঙ্গে ককপিটে অনেক সময় কাটিয়েছি। তখন দেখেছি, ওর কাছে আগে থেকেই প্ল্যান ‘বি’ এবং প্ল্যান ‘সি’ প্রস্তুত থাকত। কোনও বিষয়ে পর্যবেক্ষণ, চিন্তভাবনা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া— এই গুণগুলিই স্মিতকে অন্যদের থেকে অনেক ক্রোশ এগিয়ে দিয়েছে। আর এটাই ওকে সাহস জোগাতে সাহায্য করে।’’