Advertisement
E-Paper

ফ্লাইদুবাইয়ের নিরাপত্তায় আপস? নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইজ়রায়েলে ওমানি পাইলটদের অবাধ যাতায়াত কী ভাবে? প্রশ্ন

দ্য জেরুসালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদন বলছে, ইজ়রায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন দেশের পাইলটদের সে দেশে বিমান নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। এই শর্তে ফ্লাইদুবাইয়কে পরিষেবার অনুমতি দিয়েছিল তেল আভিভ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৪
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার পর ইজ়রায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে ওমানি পাইলটেরা দুবাই থেকে তেল আভিভে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান চালিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার পরেও কী ভাবে ওমানি পাইলটদের ইজ়রায়েলের পথে বিমান চালানোর অনুমতি দেওয়া হল, সেই প্রশ্ন জোরালো হতে শুরু করেছে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজ়রায়েলের সঙ্গে যে সব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই সেই সব দেশের পাইলটদের বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে ওমান। ঘটনাচক্রে, দেখা গিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ভারতীয় পাইলটের উপর হামলাকারী সহ-পাইলট এক জন ওমানি। টাইমস অফ ইজ়রায়েল-সহ বেশ কয়েকটি বিদেশি সংবাদমাধ্যম অন্তত তেমনই দাবি করছে। এই ঘটনার পর অনেকে বলছেন, ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার ঘটনা না ঘটলে হয়তো দুবাই-তেল আভিভ পথে এ ভাবেই অবাধ যাতায়াত করতেন ওমানি পাইলটেরা।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে সব দেশের সঙ্গে তাদের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, ইজ়রায়েলের পথে বিমান চালানোর অনুমতি দেবে না বিমান সেই সব দেশের পাইলটদের। এই বিষয়ে নজরদারি চালাতে মূলত বিদেশি বিমান সংস্থাগুলির উপরে ছেড়ে দিয়েছে ইজ়রায়েল। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজ়রায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন ভেটও ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলটদের পরিচয় জানতে আলাদা ভাবে কোনও নজরদারি চালায়নি। শুধু বিদেশি বিমান সংস্থাগুলিকে বলা হয়েছিল তারা যেন সেই সব দেশের পাইলটদের ইজ়রায়েলে না পাঠায় যাদের সঙ্গে ইজ়রায়েলের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। আর এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, নজরদারির গাফিলতি কি দু’তরফেই ছিল?

দ্য জেরুসালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদন বলছে, ইজ়রায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন দেশের পাইলটদের সে দেশে বিমান নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। এই শর্তেই ইজ়রায়েলে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান পরিষেবার অনুমতি দিয়েছিল তেল আভিভ। কিন্তু ঘটনাচক্রে দেখা যাচ্ছে, সেই নিয়ম মানা হয়নি। ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার পর ইজ়রায়েলের পরিবহণ মন্ত্রী মিরি রেগেভ তাঁদের দেশে এই সংস্থার বিমানের যাতায়াতে আপাত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ইজ়রায়েলের পরিবহণ মন্ত্রকের দাবি, শিন ভেট নিরাপত্তা সংস্থাও কোনও ধরনের বিপদসঙ্কেতও দেয়নি। শুধু তারা বিমানযাত্রীদের ব্যাগপত্র ভাল ভাবে পরীক্ষার করার বিষয়েই সতর্কবার্তা দিয়েছিল। দ্য জেরুসালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজ়রায়েলে বিমান নিয়ে আসা পাইলটদের পরিচয় সম্পর্কে জানার ক্ষমতা রয়েছে শিন ভেটের হাতে। কিন্তু গত কয়েক বছরে ইজ়রায়েলে আসা পাইলটদের সম্পর্কে কোনও খোঁজখবর নেয়নি সংস্থাটি। স্টেট কম্পট্রোলারের তরফের ২০২৪ সালে ইজ়রায়েল সরকারকে বিমান পরিবহণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা প্রোটোকলের সমীক্ষা করানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তার পরেও কী নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও সমীক্ষা করানো হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পরিবহণ মন্ত্রক এবং সেন্টার ফর অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি-র বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজ়েড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভে যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৯ মিনিটে বিমানটি রওনা হয়। ওড়ার পর আড়াই ঘণ্টা সব ঠিকঠাকই ছিল। বিমান যখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, তখন ককপিটে ভারতীয় পাইলটকে ছুরি দিয়ে কোপান সহ-পাইলট। শুধু তা-ই নয়, বিমানটিকে ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা করেন তিনি। দাবি করা হচ্ছে, সহ-পাইলট ওমানের নাগরিক।

Dubai

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy