ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে স্বামী স্মিত মচ্ছর সহ-পাইলটের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁকে কোপানো হয়েছে। খবর পৌঁছেছিল স্মিতের পরিবারে। তাঁর স্ত্রীর কাছেও। স্মিতের উপর হামলার খবর শুনে একের পর এক ফোন করে স্মিতের পরিবারের খোঁজ নেন আত্মীয়, বন্ধু, পরিচিত থেকে পড়শি—অনেকে। সকলেই স্মিতের অবস্থা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই বার বার খোঁজ নিচ্ছিলেন মচ্ছর পরিবারের।
মুম্বইয়ে যে আবাসনে মচ্ছর পরিবার থাকে, সেই আবাসনেই থাকেন চিকিৎসক আরতি শর্মা। তিনি জানিয়েছেন, স্বামীর উপর হামলার খবর পেয়ে কী বলেছিলেন স্মিতের স্ত্রী। আরতি জানান, যখনই তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারেন, সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেছিলেন স্মিতের স্ত্রীকে। সঙ্কটময় মুহূর্তে পরিবারের সকলে ঠিক আছেন কি না, তিনি ঠিক রয়েছেন কি না, কোনও সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, ইত্যাদি জানতে চাওয়া হয় স্মিতের স্ত্রীর কাছে।
আরতির দাবি, সঙ্কটের সময়ে তাঁদের খোঁজ নেওয়া এবং স্মিতের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান ক্যাপ্টেনের স্ত্রী। খুব শান্ত কণ্ঠে সকলকে উত্তর দিয়েছেন। উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্যও সকলকে আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি জানান, তাঁর স্বামী ঠিক রয়েছেন। আরতি জানান, সকলে যখন স্মিতের সাহসিকতার চর্চায় মেতে, তাঁর পরিবার আতঙ্কের মধ্যে ছিল।
ক্যাপ্টেন স্মিতের অবস্থা স্থিতিশীল। আবু ধাবিতে তাঁর চিকিৎসা চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলে শারীরিক অবস্থার খোঁজও নেন। স্মিতের সঙ্গে কথা বলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সাহসিকতার জন্য এবং ইজ়রায়েলি নাগরিকদের বড় বিপদ থেকে বাঁচানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি তেল আভিভে আসার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণও জানান। উল্লেখ্য, গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে স্মিতের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে। সহ-পাইলট ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করেন। সেই সময় বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে নীচে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন স্মিত। পরে অন্য ক্রু এবং যাত্রীরা হামলাকারীকে ধরে ফেলেন।