ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানকে সৌদি আরবের তাবুর বিমানবন্দরে যে দুই পাইলট নিরাপদে অবতরণ করান, তাঁদের পরিচয় নিয়ে রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। সেই মুহূর্তে দুই পাইলট যে ভাবে কাজ করেছিলেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসার মাঝেও তাঁদের পরিচয় নিয়ে জল্পনা জোরালো হতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, ‘রহস্যময়’ ওই দুই পাইলট কারা?
বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দুই পাইলট যাত্রীদের মাঝেই বসে ছিলেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে যখন ক্যাপ্টেন স্মিতকে তাঁর সহ-পাইলট কোপান, সেই ঘটনার পর স্মিত কোনও মতে ককপিটের দরজা খুলে দিলে যাত্রীদের আসন থেকে উঠে এসে ককপিটের দায়িত্ব সামলেছিলেন দুই পাইলট। তার পর তাঁরা বিমানটিকে নিরাপদে সৌদিতে অবতরণ করান। গোটা বিশ্বে যখন ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতা এবং সহ-পাইলটের হামলা নিয়ে আলোচনা চলছে, তার মধ্যেই উঠে এসেছে সেই দুই ‘রহস্যময়’ পাইলটের প্রসঙ্গ।
উল্লেখ্য, ঘটনার চার দিন পরেও ‘রহস্যময়’ দুই পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করেনি বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই। এমনকি কোনও সংবাদমাধ্যমও ওই দুই পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে আনেনি। যদিও ফ্লাইদুবাই শুধু এটা বলেই দায় সেরেছে যে, ওই দু’জন ‘অন-ডিউটি ক্রু মেম্বার’। তার বেশি কিছু বলেনি তারা। সংবাদ সংস্থা এপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই বিমানের এক যাত্রী ড্যানিয়েল স্লিকটার দাবি করেছেন, ককপিটের দৃশ্য দেখে যাত্রীরা যখন আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেছিলেন, সেই সময় দুই পাইলট এগিয়ে যান।
ড্যানিয়েলের কথায়, ‘‘যাত্রীদের কয়েক জন যখন হামলাকারী সহ-পাইলটকে ককপিট থেকে টেনে বার করার চেষ্টা করছিলেন, সেই সময় যাত্রীর আসনে বসে থাকা দুই পাইলটের এক জন প্রায় লাফ মেরে ককপিটে ঢুকে পড়েন। তাঁর পিছু পিছু আসেন আরও এক জন পাইলট।’’ প্রথম জন সোজা গিয়ে বসে পড়েন পাইলটের আসনে। বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। দ্বিতীয় পাইলটও ককপিটে ঢুকে পড়েন। তার পর তাঁরা দু’জনে ককপিটের দরজা বন্ধ করে দেন। ড্যানিয়েল জানিয়েছেন, দেবদূতের মতো হাজির হয়েছিলেন দুই পাইলট। কিন্তু তাঁরা কারা? সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। যাত্রীদের অনেকেই আবার জানিয়েছেন, প্রায় ১০ মিনিট পর বিমান স্বাভাবিক অবস্থায় আসে। সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনার পর দুই পাইলট ককপিটে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেওয়ায় অনেকে আবার ভেবেছিলেন, বিমানটিকে কি ছিনতাই করে ইরানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? কারণ, ককপিটে ঢোকার পর থেকে ওই পাইলটেরা কোনও ঘোষণা করেননি যাত্রীদের জন্য। ফলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ছিল বলে দাবি ড্যানিয়েলের। কিন্তু ৪৫ মিনিট পর যখন পাইলটেরা ঘোষণা করেন বিমানটিকে সৌদির তাবুকে অবতরণ করানো হচ্ছে, তখন তাঁরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন।