আগামী দিনে যাতে কোনও মহিলা বাইকারকে তাঁর মতো পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে যত দূর যেতে হয়, তিনি যেতে রাজি আছেন বলেই জানালেন হরিয়ানার গুরুগ্রাম কাণ্ডে আহত বাইকার সিয়া। এনডিটিভি-কে এক সাক্ষাৎকারে গোটা ঘটনাটি বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে অভিযুক্ত কল্যাণ বইঁসলার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন।
সিয়ার প্রশ্ন, দিল্লি, গুরুগ্রামের মতো জায়গায় সাধারণ মানুষ তা হলে কী ভাবে নিজেকে নিরাপদ মনে করবেন, যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপই না করেন? এর পরই তিনি হুঁশিয়ার দিয়েছেন, ‘‘আমি লড়াই চালিয়ে যাব। এত সহজে হার মানব না। একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করেই ছাড়ব।’’ অভিযুক্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জও ছুড়েছেন সিয়া। তিনি বলেন, ‘‘দেখুন আমার পাশে গোটা বাইকার কমিউনিটি রয়েছে। আপনি যতই নানা ধরনের মন্তব্য করুন, পার পাবেন না। যাঁরা মহিলা বাইকারদের হেনস্থা করার চেষ্টা করবেন, ওই কাজ করার আগে দু’বার ভাবতে হবে তাঁদের। আমি এ রকমই ব্যবস্থা করে তবেই ক্ষান্ত হব।’’
আরও পড়ুন:
সিয়া আরও জানিয়েছেন, কেউ যদি ভেবে থাকেন যে, আইন ভাঙার পরেও নিস্তার পেয়ে যাবেন, তা ভাবলে ভুল হবে। কী ভাবে তাঁকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ধাক্কা মারা হয়েছে, সেই ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন সিয়া। তাঁর কথায়, ‘‘গাড়িচালক যদি ভেবে থাকেন এক জন মহিলাকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবেন, সেটা হতে দেব না। এটা গাড়িচাপা দিয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনা।’’ পুলিশ এবং ট্রাফিক পুলিশদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সিয়া।
রবিবার গুরুগ্রামের রাস্তায় একটি গাড়ি ধাক্কা মারে বাইকার ‘সিয়া’কে (তরুণীর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলের নাম ‘রেবেল হুইল্স সিয়া’)। গাড়ির ধাক্কায় রাস্তায় আছড়ে পড়েন সিয়া। তাঁর স্পোর্টস বাইকের সামনে লাগানো ক্যামেরায় ধরা পড়ে গোটা দৃশ্য। সুরক্ষাবর্ম পরা থাকায় গুরুতর চোটের হাত থেকে রক্ষা পান সিয়া। ওই ঘটনার পর গুরুগ্রাম পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা করে। প্রথমে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো এবং জখম করার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় চালকের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছিল। পরে পুলিশ কল্যাণ বাইন্সলাকে চালক হিসাবে শনাক্ত করে। মঙ্গলবার সিসিটিভি-সহ তদন্তের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার ধারাও যোগ করা হয়। পরে রাজস্থানের দৌসা থেকে কল্যাণকে আটক করা হয়।