সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই আইআইটি বম্বের হস্টেলগুলিতে শুরু হয়েছে পরিকাঠামোগত বদল। ক্যাম্পাসের হস্টেলের ঘরগুলি থেকে সমস্ত সিলিং ফ্যান খুলে নিয়ে তার জায়গায় দেওয়াল-পাখা বা ‘ওয়াল ফ্যান’ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই প্রথম দফার ওয়াল ফ্যান ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছেছে এবং দ্রুত তা লাগানোর কাজ শুরু হতে চলেছে।
কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, এটি মাস দু’য়েক আগে অনুমোদিত একটি সংস্কার প্রকল্পের অংশ। কিন্তু বছর বাইশের ছাত্র সাহিলের আত্মহত্যার ঠিক পরেই এই পদক্ষেপ প্রকাশ্যে আসায় তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
সাহিল আইআইটি বম্বের ‘এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাড়ি মহারাষ্ট্রের ইয়াবতমাল জেলায়। পুলিশ সূত্রে খবর, আইআইটি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, গত শুক্রবার মিড-সেমেস্টার পরীক্ষা চলাকালীন ফোনে ‘চ্যাটজিপিটি’ ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়েন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই পোয়াই ক্যাম্পাসের হস্টেলের ঘর থেকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
আরও পড়ুন:
সাহিলের বাবা রবীন্দ্রের অভিযোগ, পরীক্ষায় নকল করার ঘটনার পর তাঁর ছেলেকে লাগাতার অপমান করা হয়েছে এবং দলিত হওয়ায় তাঁকে জাতিগত বৈষম্য ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ছেলের মৃত্যুর নেপথ্যে আইআইটি প্রশাসনের গাফিলতিকেই সরাসরি দায়ী করেছেন তিনি।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে পড়ুয়া এবং রাজনৈতিক কর্মীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতির চাপে সোমবার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাফেয়ার্সের ডিন, অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে তাঁর প্রশাসনিক পদ থেকে সরিয়ে দেয় আইআইটি কর্তৃপক্ষ। যদিও তিনি এখনও ফ্যাকাল্টি হিসেবে বহাল রয়েছেন। সাহিলের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই অধ্যাপক দুল্লার বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ নম্বর ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আইআইটি প্রশাসন ফ্যান বদলের বিষয়টি নিয়ে সরকারি ভাবে এখনও মুখ খোলেননি। পড়ুয়ারা এই উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এনসিপি (এসপি) দলের মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডে প্রশ্ন তুলেছেন, “সিলিং ফ্যানের বদলে দেওয়াল-পাখা লাগালেই কি দেশজুড়ে আইআইটি-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে আত্মহত্যার মহামারি রোখা যাবে?” তাঁর মতে, এই ধরনের পরিকাঠামোগত বদলের চেয়ে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে প্রশাসনের অনেক বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।