ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুর (যাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ) ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমশ অশান্ত হচ্ছে আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাস। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে সাসপেন্ডেড অধ্যাপক তথা ‘ডিন অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাফেয়ার্স’ সূর্যনারায়ণ দুল্লার শাস্তির দাবিতে পড়ুয়াদের একাংশ আগেই বিক্ষোভ শুরু করেছিল ক্যাম্পাসে। এ বার তাঁর সমর্থনে এগিয়ে এল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংগঠন। সেই সঙ্গে গবেষক, পড়ুয়া এবং প্রাক্তনীদের একাংশও দাঁড়িয়েছেন দুল্লার পাশে।
আইআইটি বম্বের ফ্যাকাল্টি ফোরাম সোমবার দাবি করেছে, অধ্যাপক দুল্লা একজন পরীক্ষা পরিদর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনেই তাঁর দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরীক্ষায় যে অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনা ঘটেছিল, যা তিনি নিয়মমাফিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত দুল্লার বিরুদ্ধে সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ফ্যাকাল্টি ফোরাম। দুল্লা পাশে পেয়েছেন তাঁর নিজের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অধীনন্থ ‘পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি’-র গবেষক, পড়ুয়া এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও। তাঁরাও সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইআইটি বম্বের এনার্জি সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিলের ঝুলন্ত দেহ তাঁর হোস্টেল রুম থেকে উদ্ধার হয়। সাহিলের পরিবার এবং আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ, পরীক্ষার হলে গার্ড দেওয়ার সময় এবং বিগত কয়েক মাস ধরে অধ্যাপক দুল্লা বার বার সাহিলের উদ্দেশে জাতিগত বৈষম্যমূলক মন্তব্য করছিলেন এহং হুমকি দিচ্ছিলেন, যার জেরে সাহিল আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন! সাহিলের মৃত্যুর পর আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছিলেন, শুক্রবার পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে ঢুকেছিলেন ওই ছাত্র। চ্যাটজিপিটি খুলে গোটা প্রশ্নপত্রটাই তাতে আপলোড করে দিয়েছিলেন। সেখান থেকে উত্তর সংগ্রহ করে লিখছিলেন। এই প্রক্রিয়ার সময় হলঘরে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপকের কাছে তিনি ধরা পড়ে যান। এর পর বিভাগীয় প্রধান তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।
আইআইটি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ওই ঘটনার কোনও প্রভাব ছাত্রের কেরিয়ারে পড়বে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন অধ্যাপকেরা। ঘটনাচক্রে, পরীক্ষার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হস্টেলের ঘর থেকে সাহিলের দেহ উদ্ধার করা হয়। তার পর থেকেই কর্তৃপক্ষের আচরণ এবং ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ১৮ দফা দাবিকে সামনে রেখে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন। লাগাতার প্রতিবাদের পর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হন কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তাঁদের পূর্ববর্তী বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। পোস্টে তাঁরা লিখেছিলেন— ‘‘সাহিলের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের পূর্ববর্তী বিবৃতিতে থাকা সব ধরনের মন্তব্যের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।’’
বিবৃতিতে জানানো হয়, সাহিলের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত চলছে। তাঁর মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, সেই ঘটনাবলির বিবরণ প্রকাশ করা উচিত হয়নি। ওই ঘটনার জন্য যে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে, সেই দুল্লাকে ‘ডিন অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাফেয়ার্স’ পদ থেকে অপসারিত করার এবং সাসপেন্ড করার কথাও জানিয়েছিলেন আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, বিক্ষোভকারীদের ১৮ দফা দাবিদাওয়ার মধ্যে অন্যতম ছিল, প্রকাশ্যে সাহিলের ‘মানহানি’ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা চাইতে হবে। সেই দাবি মেনে নেয় আইআইটি বম্বে। বর্তমানে এই মামলার তদন্তভার মুম্বই পুলিশের অপরাধদমন শাখার হাতে। ‘পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি’-র গবেষক, পড়ুয়ারা সোমবার দাবি করেছেন, অধ্যাপক দুল্লা শিক্ষাগত ডিসিপ্লিনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর। কখনও কখনও তাঁর কথা বলার ধরন কিছুটা রুক্ষ শোনাতে পারে, কিন্তু তিনি কখনওই কারও প্রতি অন্যায় বা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন না।