ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগের মামলায় চাপে পড়লেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গাঁধী। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এই মামলায় সনিয়ার বিরুদ্ধে এফআরআর দায়েরের আর্জি খারিজ করে দিয়েছিলেন দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বৈভব চৌরাসিয়া। কিন্তু সোমবার দ্বারকার বিশেষ আদালতের বিচারক বিশাল গোগনে সেই রায়কে ‘যুক্তিহীন এবং ত্রুটিপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করে বাতিল ঘোষণা করেছেন।
প্রসঙ্গত, রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে সেন্ট্রাল দিল্লি কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বিকাশ ত্রিপাঠীর আইনজীবী পবন নারাং মামলাটি করেছিলেন। নিহত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীর পুত্রবধূ ভারতের নাগরিক হওয়ার আগেই দেশের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করে তদন্তের দাবিও জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ‘জালিয়াতি’ করে সরকারি সংস্থাকে ‘প্রতারণা’ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সেই মামলায় অভিযোগকারীর তদন্তের আবেদন খারিজ করেছিল রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। বিচারক চৌরাসিয়া জানিয়েছিলেন, অভিযোগকারীর কোনও উপযুক্ত প্রমাণ নেই।
কিন্তু সোমবার বিচারক গোগনে রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের রায় খারিজ করে জানিয়েছে, তাতে কোনও যুক্তি দর্শানো হয়নি এবং তাতে যথাযথ আইনি বিচার-বিবেচনাও প্রয়োগ করা হয়নি। অভিযোগে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে দাবি করে ম্যাজিস্ট্রেট ভুল করেছেন। নির্দেশে সুস্পষ্ট আইনি ত্রুটি রয়েছে। তদন্তের আবেদন খতিয়ে দেখার শুনানি আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষ আদালতে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিচারক গোগনে। চলতি বছরের গোড়ায় এই মামলায় সনিয়া ও দিল্লি পুলিশের জবাব তলব করেছল আদালত।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভোটার তালিকায় সনিয়ার নাম তোলা হয়েছিল বলে গত বছরের গোড়ায় প্রথম অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপির আইটি সেলের তৎকালীন সর্বভারতীয় প্রধান অমিত মালবীয়। সমাজমাধ্যমে মালবীয় অভিযোগ তোলেন, খাতায়কলমে ভারতের নাগরিক হওয়ার আগেই নাকি ভোটার তালিকায় নাম উঠে গিয়েছিল সনিয়ার! সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নিজের দাবির সপক্ষে ‘নথি’ও দেখিয়েছিলেন মালবীয়। বিজেপি নেতার দাবি ছিল, ৪৫ বছর আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ‘আঁতাঁত’ করে ভোটার তালিকায় জালিয়াতি করেছেন সনিয়া। অভিযোগ, সে সময় তিনি ভারতের নাগরিকও হননি। কিন্তু তার আগেই অবৈধ ভাবে ভোটার তালিকায় নাম উঠে গিয়েছিল তাঁর।
‘প্রামাণ্য নথি’ হিসাবে ১৯৮০ সালের ভোটার তালিকার একটি ছবি (যদিও সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) পোস্ট করেছিলেন মালবীয়। ১৯৪৬ সালে ইটালিতে জন্ম সনিয়ার। পিতৃদত্ত নাম ছিল সনিয়া মাইনো। ১৯৬৮ সালে রাজীব গাঁধীর সঙ্গে বিয়ে হলেও তার পরেই তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব নেননি। বিজেপির দাবি, ১৯৮০ সালে লোকসভা ভোটের আগে প্রথম বার নয়াদিল্লি কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় নাম উঠেছিল সনিয়ার। সে সময় গাঁধী পরিবার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার সরকারি বাসভবনেই থাকত। বিজেপির আরও দাবি, ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সনিয়ার নাম ভোটার তালিকায় ছিল। অথচ তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পান ১৯৮৩ সালে। আদালতে আবেদনকারী বিকাশের দাবি ছিল, ১৯৮৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সনিয়ার ভারতীয় নাগরিকত্ব না-থাকা সত্ত্বেও, ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করা হয়। তাই সনিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগে তদন্তের দাবি জানান তিনি।