জলাভূমির বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ উঠছিল বহুদিন ধরেই। গত বছর রাজ্য মৎস্য দফতর বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেই চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু তা অমান্য করে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ওই নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় গ্রামবাসী ও রাজ্যের বনপ্রাণপ্রেমী সংগঠন ‘হিউম্যান অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যালায়েন্স লিগ’ (হিল)-এর সদস্যদের সহযোগিতায় সোমবার দিনভর কান্দি মহকুমার ভরতপুর–১ এবং ভরতপুর–২ ব্লকের বিভিন্ন বিল ও জলাভূমিতে অভিযান চালাল বন দফতর।
বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর চায়না দুয়ারি জাল (যা অনেক এলাকায় ‘শয়তান জাল’ নামেও পরিচিত) উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা। কারণ, আইন অনুযায়ী এর ব্যবহার নিষিদ্ধ। সোমবার বিভিন্ন এলাকার গ্রামবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বিল ও জলাশয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট আটটি চিনা-জাল বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর মধ্যে একটি জালে আটকে থাকা একটি কচ্ছপকেও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অভিযান শেষে বাজেয়াপ্ত করা জালগুলি আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়, যাতে সেগুলি ফের জলাশয়ে ব্যবহার করা না যায়।
‘হিল’-এর সম্পাদক সংগঠনের সম্পাদক শুভ্রজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় সোমবার বলেন, ‘‘চায়না দুয়ারি জাল শুধু মাছ নয়—কচ্ছপ, জলসাপ, জলচর পাখি সহ বহু জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনে। তাই এই ধরনের জালের ব্যবহার বন্ধ করা এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।’’ তাঁর অভিযোগ, এই জালের কারণে জলের উপর নির্ভরশীল নানা প্রাণী ও চারাপোনা সংকটের মুখে। এই চায়না দুয়ারি জাল এমনই একটি ফাঁদ যাতে মাছ-সহ যে কোনও প্রাণী এক বার ঢুকে গেলে, আর বেরিয়ে আসার কোনও উপায় থাকে না। এই বিশেষ ধরনের ফাঁদে কচ্ছপ, সাপ, গোসাপের মতো বড় প্রাণী থেকে শুরু করে মৌরলার মতো ছোট মাছের চারা এমনকি, পানকৌড়ি, ডুবুরি (লিটল গ্রিব)-র মতো জলচর পাখিও মারা পড়ে নির্বিচারে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাজারে সস্তায় বিক্রি হয় চায়না দুয়ারি। তা দিয়ে মাছ ধরাও খুব সহজ। ফলে মৎস্যজীবীদের একাংশ তা ব্যবহার করেন। মুর্শিদাবাদের বিভাগীয় বনাধিকারিক (ডিএফও) মৃদুল কুমার বলেন, ‘‘চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ। কারণ জলজ প্রাণী ও পাখিদের কাছে এই জাল প্রাণঘাতী। কান্দি রেঞ্জে বিল ও জলাশয় বেশি হওয়ার কারণে সেখানে ওই জাল ব্যবহারের অভিযোগ বেশি এসেছে। পর্যায়ক্রমে আমাদের ডিভিশনের অন্য রেঞ্জগুলিতেও আমরা স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে অভিযান ও জনসচেতনতা প্রচার শুরু করব।’’