ছুরি দিয়ে খুনের পর টুকরো টুকরো করে কাটা হয়েছিল দেহ। সেগুলো নীল রঙের ড্রামে পুরে উপরে ঢালা হয়েছিল সিমেন্ট!
প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুত খুনে দোষী সাব্যস্ত হলেন তাঁর স্ত্রী মুস্কান রস্তোগী এবং প্রেমিক সাহিল শুক্ল। বুধবার উত্তরপ্রদেশের আদালত শাস্তিদান মুলতবি রেখেছে। সরকারপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে আদালতের কাছে।
উত্তরপ্রদেশের মেরঠকাণ্ডে শোরগোল পড়েছিল সারা দেশে। হত্যাকাণ্ডের ১৩ মাস পর ধৃত দু’জনকেই দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। বিগত ১৩ মাসে ১২৬টি শুনানি হয়েছে। ২২ জন সাক্ষীর বয়ান নিয়েছে আদালত। সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার নিম্ন আদালতের বিচারক অরবিন্দকুমার মিশ্র মন্তব্য করেন, ‘‘এমন অপরাধের ঘটনা গোটা সমাজে ভীতির পরিবেশ তৈরি করে।’’ এ দিন সাজা ঘোষণা করেননি তিনি। তবে রাষ্ট্রপক্ষ মৃত্যুদণ্ড চাইবে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের মামলা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মুস্কান রস্তোগী নামে এক যুবতী তাঁদের ইন্দ্রনগরের বাড়িতে খাবারে বিষ মিশিয়ে স্বামী সৌরভ রাজপুতকে অচেতন করেছিলেন। আদালতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, ওই খাবার খাওয়ার কিছু ক্ষণ পরেই মুস্কানের প্রেমিক সাহিল সেখানে পৌঁছোন। তার পর দু’জনে মিলে রাজপুতকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।
দেহ টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল শৌচাগারে। সেখানে খণ্ড খণ্ড করে কাটা হয়েছিল মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে বাড়ি ফেরা সৌরভকে। তদন্তে উঠে এসেছে, পচনের দুর্গন্ধ চাপা দেওয়ার জন্য খণ্ড খণ্ড করে কাটা দেহ নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ড্রামের মুখে বালি, জল এবং সিমেন্টের মিশ্রণ দেওয়া হয়েছিল। পরের দিন মুস্কান-সাহিল পালিয়ে যান হিমাচল প্রদেশ। সঙ্গে সৌরভের মোবাইল নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই ফোন থেকে তাঁর বাড়ির লোকজনকে মেসেজ করা হত। বোঝানো হত, সব ঠিক আছে।
১৭ মার্চ প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ার পর পুলিশ যায় সৌরভদের বাড়িতে। উদ্ধার হয় নীল ড্রাম। দু’দিন পরে ধরা হয় মৃতের স্ত্রী এবং স্ত্রীর প্রেমিককে।
আরও পড়ুন:
বিচার চলাকালীন সরকারপক্ষের তরফে একের পর এক পারিপার্শ্বিক, প্রযুক্তিগত এবং বস্তুগত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে আদালতে। স্থানীয় দোকানদারেরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। সৌরভের খুনের আগে তাঁদের কারও কাছ থেকে ক্ষুর, কারও কাছ থেকে ড্রাম, আবার কারও কাছ থেকে সিমেন্ট-বালি ইত্যাদি কিনেছিলেন মুস্কান এবং সাহিল। অভিযুক্তদের মোবাইলের কল ডিটেল এবং মোবাইল সিগন্যাল টাওয়ারের অবস্থান দেখে তাঁদের ধরা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে, ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি অফিসারকে।