‘ভোটচুরি’র অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতির দরবারে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। শুক্রবার ঘণ্টাখানেক রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠকের পর আশাবাদী বিরোধীরা। রাহুল গাঁধী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— একসুরে বিরোধী শিবিরের দাবি, ভোটচুরির অভিযোগ উড়িয়ে দেননি রাষ্ট্রপতি। বরং মন দিয়ে তাঁদের কথা শুনেছেন। শুধু তা-ই নয়, অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণও চেয়ে পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, এ বার তারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করবে। তাঁর হাতেও স্মারকলিপি তুলে দেবে তারা।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের। শুক্রবার রাত ৮টায় সময় দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। সেইমতো ১০ সদস্যের ওই দল রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছোয়। রাত ৯টার কিছু আগে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বার হয় ওই প্রতিনিধি দল। তাদের দাবি, বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে। যদিও এই বৈঠক নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে এখনও কোনও বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি। অন্য দিকে, রাহুলেরা যখন রাষ্ট্রপতি ভবনে যান, তখন বিজয় চকে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান বাকি বিরোধী সাংসদেরা।
রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, ‘‘আমরা স্মারকলিপি
জমা দিয়েছি। আমরা রাষ্ট্রপতির ইতিবাচক মনোভাব
দেখতে পেয়েছি। উনি আমাদের বলেছেন, বিষয়টা বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখবেন। তবে তার
জন্য ওঁর প্রমাণের প্রয়োজন।’’ কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রীর সংযোজন, ‘‘আমাদের অভিযোগের সপক্ষে প্রয়োজনীয়
নথি এবং তথ্যপ্রমাণ জমা করতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি। আমরা পাঠাব বলে এসেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা রাষ্ট্রপতিকে বলেছি,
দেশে অত্যন্ত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে গণতন্ত্র রক্ষা করতে
আপনার উচিত যথাযথ পদক্ষেপ করা।’’
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠককে অভাবনীয় বলে বর্ণনা করেছেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘‘আমরা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমার ভারতের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করেছেন।’’ কংগ্রেস নেতার দাবি, রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য কখনওই অস্বীকার বা খণ্ডন করেননি। রাহুলের কথায়, ‘‘আমরা যা বলেছি সব শুনেছেন রাষ্ট্রপতি। আমাদের বক্তব্যে পাল্টা কোনও যুক্তি দেননি। ভোটচুরির প্রমাণ আমাদের জমা করতে হবে।’’ শেষে এ-ও বলেছেন, ‘‘আমরা সোমবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করব। তাঁকেও একটা স্মারকলিপি দেব।’’
১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে রাহুল, মমতা ছাড়াও ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, সমাজবাদী পার্টির নেতা রাজীব রায়, এনসিপি (এসপি) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা এবং ভিসিকে-র থোল তিরুমাভালাম।
‘ভোটচুরির’ অভিযোগে বিরোধী আন্দোলন কী ভাবে আরও তীব্রতর করা যায়, সেই রণকৌশল ঠিক করতে শুক্রবার বিকেলের পর সংসদের সেন্ট্রাল হলে আলোচনায় বসেছিলেন বিরোধী সাংসদেরা। সূত্রের খবর, সেই আলোচনায় রাহুল দাবি করেন, বিরোধী দলের বিক্ষোভ সরকারের ‘ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে’। শাসকগোষ্ঠী এখন ‘ভীত’। সাংসদের উদ্দেশে রাহুলের বার্তা, ‘‘জ্ঞানেশ কুমারের চেয়েও সমস্যাটা আরও অনেক গভীর। সেই কারণে বর্তমান সরকারের পতনের প্রয়োজন।’’
দিল্লির রাজপথে বিরোধীদের মিছিল। ছবি: পিটিআই।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনকে ঘিরে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই কমিশনার, সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীর অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষা, বেআইনি ভাবে ৬ নম্বর ফর্মের বয়ান বদল, এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং যুক্ত করা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সঁধু এবং জোশী। গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। বিতর্কের মুখে কমিশনের ব্যাখ্যা ছিল, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন এই ব্যাখ্যা দিলেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে বিরোধী দলগুলি কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকেই জ্ঞানেশের অপসারণের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার বিরোধী জোটের সাংসদেরা নির্বাচন সদন অভিযান করেন। বুধ এবং বৃহস্পতিবারও জ্ঞানেশবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয় দিল্লি। বুধবারের বিক্ষোভের অভিমুখ ছিল যন্তর মন্তর। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে মেগা সমাবেশ রয়েছে ‘ইন্ডিয়া’র। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপতির কাছেও জ্ঞানেশের ‘বেআইনি কার্যকলাপ’-এর খতিয়ান পেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।
- সিজেপির কর্মসূচিকে মাথায় রেখে শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ।
-
শেষমুহূর্তে স্থগিত জ্ঞানেশের অপসারণে ‘নকল সংসদ’! নাম ও পদ্ধতি পাল্টেছিল আগেই, নেপথ্যে কোন কোন কারণ?
-
ছাড়া পেলেন আইসা নেত্রী নেহা, এখনও ‘অজানা’ জায়গায় আটক সিজেপি প্রধান দিপকে, দাবি সঙ্গীদের
-
তেরঙা যাত্রার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েই আটক দিপকে! যন্তর মন্তরের কাছ থেকে নেহাকেও আটক করল দিল্লি পুলিশ
-
‘তেরঙা যাত্রা বাতিল করুন!’ বাড়ি গিয়ে দিপকেকে নোটিস দিল পুলিশ, তবে নিষেধাজ্ঞা জারি করল না সুপ্রিম কোর্টও
-
বিরোধী ঐক্যের ডাক দিপকের! তেরঙা অভিযান নিয়ে হুঁশিয়ারি দিল্লি পুলিশের, মার্কিন নাগরিক ইমরানকে দেশ ছাড়ার নোটিস