জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে নাক গলানোয় ফের এক বার পাকিস্তানকে তুলোধনা করল ভারত। মনে করিয়ে দিল, কার্গিল যুদ্ধের সময়ে নিজেদের বাহিনীর নিহত জওয়ানদের দেহও ফেরত নিতে অস্বীকার করেছিল পাকিস্তান। অথচ, তারাই এখন শেষকৃত্যের অধিকার নিয়ে মন্তব্য করছে। ভারতের বিষয়ে নাক না-গলিয়ে নিজেদের দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার উপরে নজর দেওয়ার ‘পরামর্শ’ দিয়েছে পাকিস্তানকে।
জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে মুখ খুলেছে পাকিস্তান। ভারতও বার বার বুঝিয়ে দিয়েছে, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে নাক না গলিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এবং নিজ দেশে মানবাধিকার রক্ষা করার উপরে নজর দেওয়াই পাকিস্তানের পক্ষে শ্রেয়। এ সবের মধ্যেই সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহতদের ‘শেষকৃত্যের অধিকার’ নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করে পাকিস্তান। রাষ্ট্রপুঞ্জে ইসলামাবাদের ওই মন্তব্যের পাল্টা দেন ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভাবিকা মঙ্গলানন্দন। ভারতীয় কূটনীতিকের কথায়, “যে দেশ ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে নিজেদের নিহত সেনাদের দেহ ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেছিল, তারাই আজ অত্যুৎসাহী হয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং শেষকৃত্যের বিষয়ে কথা বলছে!”
কার্গিল যুদ্ধের পর ২৭ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও অনেক পাকিস্তানি জওয়ানের দেহ শায়িত রয়েছে ভারতের মাটিতেই। কার্গিল যুদ্ধে নিহত বহু পাকিস্তানি সেনার দেহ প্রথমে নিজেদের বলে স্বীকার করেনি পাকিস্তান। তাঁদের অনেকের দেহ ভারতীয় ভূখণ্ডেই সামরিক মর্যাদা ও ধর্মীয় রীতি মেনে সমাহিত করা হয়। নথিপত্র অনুযায়ী, কার্গিল যুদ্ধে নিহত অনেক পাক জওয়ানের দেহ পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় এবং ইসলামিক ধর্মীয় রীতি মেনে সমাহিত করে ভারতীয় বাহিনী। পাকিস্তানকে বিঁধে সে কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় কূটনীতিক।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে তুলোধনা করে ভাবিকা বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীরে কী হচ্ছে, তা নিয়ে বেশি না ভেবে পাকিস্তানের উচিত কাশ্মীরের অবৈধ ভাবে দখল করে রাখা অংশে কী হচ্ছে, সে দিকে নজর দেওয়া। পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্রমশ কমছে এবং তাঁদের অধিকার ধারাবাহিক ভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। যে দেশ নিজেদের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তাদের ভারতকে জ্ঞান দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার নেই।”
পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় আচার-আচরণ পালনের স্বাধীনতা এবং তাঁদের মানবাধিকার নিয়ে আগেও বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগেও বার বার বিঁধেছে ইসলামাবাদকে। এ বার ফের এক বার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে পাকিস্তানকে একহাত নিল নয়াদিল্লি।