Advertisement
E-Paper

স্টারলিঙ্ক প্রসঙ্গে মাস্কের দাবি ওড়াল মোদী সরকার! বিবৃতি জারি করে জানাল, ‘ভারতীয় ব্যবস্থায় নেই কোনও বৈষম্য’

২০২২ সাল থেকে অপেক্ষা করার পর গত বছরের জুনে ভারতীয় যোগাযোগ মন্ত্রকের ছাড়পত্র পায় স্টারলিঙ্ক। তবে তাদের পরিষেবা এখনও চালু হয়নি এ দেশে। মাস্কের দাবি, কিছু গোষ্ঠী স্টারলিঙ্ককে ভারতে প্রবেশে ‘বাধা’ দিচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৪
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক।

মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। — ফাইল চিত্র।

স্টারলিঙ্ককে ভারতীয় বাজারে প্রবেশে ‘বাধার’ অভিযোগ ওড়াল দিল্লি। স্পষ্ট করে দেওয়া হল, এ দেশে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা-সহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য একটি সুষ্ঠু এবং বৈষম্যহীন ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও কেন্দ্রের বিবৃতিতে স্টারলিঙ্ক বা সংস্থার মালিক ইলন মাস্কের নামোল্লেখ করা হয়নি। তবে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রক জানিয়েছে, বৈষম্যের যে দাবি সমাজমাধ্যমে করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বুধবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন মার্কিন ধনকুবের মাস্ক। সেখানে তিনি দাবি করেন, কিছু গোষ্ঠী তাঁর কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা সংস্থা স্টারলিঙ্ককে ভারতীয় বাজারে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। কাদের বিরুদ্ধে তাঁর ‘অভিযোগ’, তা ওই পোস্টে স্পষ্ট করেননি মাস্ক। হেঁয়ালি করে লেখেন, “আপনারাই বুঝে নিন কারা বাধা দিচ্ছে।” মার্কিন ধনকুবেরের ওই পোস্টের পর পরই এ বার নিরপেক্ষ সরকারি কাঠামো স্পষ্ট করে দিল ভারত।

এক বিবৃতিতে যোগাযোগ মন্ত্রক বলেছে, “সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই ব্যবস্থার বৈষম্যমূলক প্রয়োগ হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।” এর পরেই দিল্লির স্পষ্ট বার্তা, “স্যাটেলাইট যোগাযোগ-সহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য ভারতে একটি সুষ্ঠু এবং বৈষম্যহীন কাঠামো রয়েছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরিষেবার প্রদানের লাইসেন্স পাওয়া প্রতিটি সংস্থাকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্তাবলি মেনে চলতে হয়। সাধারণ ব্যবহারকারী এবং তাঁদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড রয়েছে, তা-ও বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

২০২২ সাল থেকে অপেক্ষা করার পর গত বছরের জুনে ভারতীয় যোগাযোগ মন্ত্রকের ছাড়পত্র পায় স্টারলিঙ্ক। কেন্দ্র জানিয়েছে, স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য তিনটি সংস্থাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত তিনটি সংস্থারই নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই কোনও লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থা স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য পরবর্তী ধাপে এগোতে পারবে।

বুধবার অপর এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, “যে ভারতীয়রা বর্তমান বাজারদরে ইন্টারনেট পরিষেবা কিনতে পারছেন না, বা যাঁদের কাছে কোনওরকম ইন্টারনেট পরিষেবাই পৌঁছোচ্ছে না, ভারতে তাঁদের জন্য স্বল্প খরচে হাই-স্পিড ইন্টারনেট পরিষেবার ব্যবস্থা করবে স্টারলিঙ্ক।”

কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা দেয় স্টারলিঙ্ক। দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতের বাজারে তারা প্রবেশ করতে চাইছিল। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবং অন্য বিবিধ কারণে বার বার স্টারলিঙ্কের সরকারি ছাড়পত্র পাওয়া পিছিয়ে গিয়েছিল।

ভারতের অন্যতম প্রধান দুই টেলিকম তথা ইন্টারনেট প্রদানকারী সংস্থা এয়ারটেল এবং রিলায়্যান্স জিয়ো-র সঙ্গে ইতিমধ্যে স্টারলিঙ্কের চুক্তি হয়েছে। ভারতের বাজারে স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট আনার জন্য গত বছরের মার্চে মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছিল এয়ারটেল। পরে মুকেশ অম্বানীরাও একই চুক্তি করেন। তবে উভয়ক্ষেত্রেই চুক্তি ছিল শর্তাধীন। বলা হয়েছিল, ভারত সরকারের ছাড়পত্র পেলে তবেই স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট এ দেশে ব্যবহার করবে এয়ারটেল বা জিয়ো।

Elon Musk Starlink

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy