স্টারলিঙ্ককে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করতে ‘বাধা’ দিচ্ছে কিছু গোষ্ঠী? এ বার এমনটাই অভিযোগ তুললেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। যদিও সরাসরি কোনও গোষ্ঠীর নামোল্লেখ করেননি তিনি। হেঁয়ালি মিশিয়ে মাস্কের দাবি, “আপনারাই বুঝে নিন কারা বাধা দিচ্ছে।”
গত কয়েক বছর ধরেই ভারতীয় বাজারে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্টারলিঙ্ক। কিছু ক্ষেত্রে আইনি ছাড়পত্রও মিলেছে। কিন্তু আসবে আসবে করেও এখনও ভারতে প্রবেশ করে উঠতে পারেনি মাস্কের এই কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট (স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, সংক্ষেপে স্যাট-নেট) পরিষেবা। কবে ভারতীয় বাজারে করবে, তা-ও এখনও চূড়ান্ত নয়।
মাস্কের মালিকানাধীন সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ স্টারলিঙ্ক সংক্রান্ত বিষয়ে একটি পোস্ট করা হয় ‘ডজ ডিজ়াইনার’ নামে এক হ্যান্ডল থেকে। সেখানে দাবি করা হয়, গত মার্চ পর্যন্তও ভারতের ১১ হাজারেরও বেশি গ্রামাঞ্চলে ৪জি পরিষেবা পৌঁছোয়নি। এ অবস্থায় ভারতে ‘স্টারলিঙ্ক’ প্রয়োজন বলে দাবি করেন ওই এক্স ব্যবহারকারী। সেটি নিজ হ্যান্ডলে শেয়ার করে মাস্ক লেখেন, “দুর্ভাগ্যবশত, ভারতীয়দের উপরে নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখার জন্য কিছু গোষ্ঠী আমাদের বাধা দিচ্ছে। তারা কারা, সেটি আপনারা ধরে নিতে পারেন।” ধনকুবেরের আরও সংযোজন, “এটা ভারতীয়দের উপরে একটি অপরাধ।”
আরও পড়ুন:
পরে অন্য একটি পোস্টে মাস্ক লেখেন, “যে ভারতীয়রা বর্তমান বাজারদরে ইন্টারনেট পরিষেবা কিনতে পারছেন না, বা যাঁদের কাছে কোনওরকম ইন্টারনেট পরিষেবাই পৌঁছোচ্ছে না, ভারতে তাঁদের জন্য স্বল্প খরচে হাই-স্পিড ইন্টারনেট পরিষেবার ব্যবস্থা করবে স্টারলিঙ্ক।” ঘটনাচক্রে, চলতি মাসেই বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে পরিষেবা চালু করেছে মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিঙ্ক। প্রতিবেশী ভুটানেও চালু রয়েছে এই সংস্থার ইন্টারনেট পরিষেবা।
স্টারলিঙ্ক ভারতীয় বাজারে প্রবেশের তোড়জোড় শুরু করতেই অন্যান্য টেলিকম সংস্থাগুলির উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়। নিজেদের গ্রাহক-সংকোচন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাগুলি। এ অবস্থায় গত বছরের জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারতে স্টারলিঙ্কের সর্বাধিক ২০ লক্ষ গ্রাহক থাকবে। শুধু তা-ই নয়, স্টারলিঙ্ক মাত্র ২০০ এমবিপিএস পর্যন্ত ইন্টারনেটের সুবিধা দেবে। ফলে এতে টেলিকম পরিষেবার উপর কোনও প্রভাব পড়বে না বলেও জানিয়েছিল কেন্দ্র।