ছোটবেলায় নিজের দাদুর হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। একবার, দু’বার নয়। দিনের পর দিন, বার বার! বড় হয়ে সেই অত্যাচারের প্রতিশোধ নিলেন তরুণী। ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মেরে মেরে খুন করে ফেললেন দাদুকেই!
মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের ঘটনা। রবিবার ভোরে ৭৫ বছর বয়সি বৃদ্ধকে আক্রমণ করেন তাঁর ২০ বছরের নাতনি। ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে সজোরে বৃদ্ধের মাথায় একাধিক আঘাত করা হয়। তিনি তখন ঘুমোচ্ছিলেন। উঠে পালানোর বা কোনও রকম প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগই পাননি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা চলাকালীন বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, ছোটবেলায় নিয়মিত দাদুর হাতে নিগৃহীত হতেন তিনি। সেই রাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝামেলার সময় পুরনো স্মৃতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। রাগের মাথায় তাই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন:
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার অশোক সিংহ জাডোন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তরুণী ছোটবেলায় মা-বাবা এবং দাদু-ঠাকুরমার সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন। দাদু তাঁকে অশালীন ভাবে স্পর্শ করতেন বলে অভিযোগ। কিশোরী অবস্থায় একাধিক বার বাবা-মাকে সেই কথা জানিয়েছিলেন তরুণী। কিন্তু দাদুর বিরুদ্ধে কেউ কোনও কথা বলেননি। পরে তাঁর বাবা-মা তাঁকে নিয়ে অন্য বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। শনিবার রাতে দেরি করে বাড়ি ফেরায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল তাঁর। তখনই ফিরে আসে পুরনো আক্রোশ।
অভিযোগ, রাত করে বাড়ি ফেরায় মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বাবা-মা। তরুণী প্রশ্ন তোলেন, নিজের বাড়িতে ছোট থেকে যখন তাঁকে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, তখন বাবা-মায়ের এই উদ্বেগ কোথায় ছিল? ক্রিকেট ব্যাট হাতে নিয়ে রাত ৩টেয় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তিনি। স্কুটি চালিয়ে দাদুর বাড়ি পৌঁছোন। ঠাকুমা দরজা খুলে দিলে সটান তিনি পৌঁছে যান দাদুর বিছানার পাশে। ঘুমন্ত অবস্থাতেই সাত থেকে আট বার তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করেন ব্যাট দিয়ে। চিৎকার করে ঠাকুমা পাড়ার লোক জড়ো করেছিলেন। কিন্তু বৃদ্ধকে বাঁচানো যায়নি। তরুণীকে আপাতত নিজেদের হেফাজতে রেখেছে পুলিশ।