বিমান দুর্ঘটনা ঘটাবেন, আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন ওমানের পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। সেই কারণে দুবাইয়ের বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তদন্তকারীদের তেমনটাই জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগ, ১৮০ জন যাত্রী-সহ ওই বিমান ‘ক্র্যাশ’ করাতে চেয়েছিলেন সহকারী পাইলট। ককপিটে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতও করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
ইজ়রায়েলি গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করে রিপোর্টে দাবি, হামাম ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে জুলাই মাসে হামলা করবেন ঠিক করেছিলেন। দিনক্ষণও পাকা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে আসেন। পরে সেপ্টেম্বর মাসে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করেন তিনি। কেন জুলাইয়ের পরিকল্পনা বাতিল করলেন শেষ মুহূর্তে? হামাম তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ওই সময়ে বিমানটিতে তাঁর এক বন্ধু উঠে পড়েছিলেন। তা দেখে তিনি পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বন্ধুকে মারতে চাননি।
আরও পড়ুন:
আট মাস আগে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন হামাম। জানিয়েছেন, ইজ়রায়েলে ৯/১১-র ধাঁচে সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটানোই তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে কোন কোন বিমান সংস্থার বিমান ইজ়রায়েলে যাতায়াত করে, খোঁজ নিয়েছিলেন তিনি। তার পর প্রত্যেকটিতেই পাইলট হিসেবে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। হামামের কথায়, ‘‘সব ক’টি বিমান সংস্থাতেই ঢোকার চেষ্টা করেছিলাম আমি। চাকরি পাওয়ার আগে থেকেই এই দিনটার পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। স্বপ্ন ছিল, তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমান ‘ক্র্যাশ’ করানো।’’
ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকে একাধিক বার তেল আভিভে গিয়েছেন হামাম। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী একাধিক বিমানে পাইলট হিসেবে ছিলেন। তাতে পরিকল্পনা সাজাতে আরও সুবিধা হয়েছিল। জুলাই মাসে অভিযানের নকশা পাকা করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেখতে পান, তাঁর এক বন্ধু ওই বিমানেই বিমানকর্মীর ভূমিকায় থাকবেন। তাই সে দিন আর কিছু ঘটাননি। রিপোর্টে দাবি, এর পরেও এক বার বিমান ‘ক্র্যাশ’ করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনও কারণে পারেননি। অবশেষে ৩০ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। ক্যাপ্টেন স্মিতকে খুন করে বিমান উড়িয়ে তেল আভিভ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল হামামের। শেষপর্যন্ত তা হয়নি।