দিল্লিতে নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব বিরোধীরা। দিল্লি পুলিশের আচরণের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে সংসদে আলোচনার ডাক দিয়েছে শাসক শিবির। কিন্তু বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী জানিয়ে দেন, শাহের বক্তব্য শুনতে তাঁরা আগ্রহী নন। একে সংসদের ‘উলটপুরাণ’ হিসাবে দেখছেন সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। দাবি, তিনি নিজের কর্মজীবনে কখনও সংসদে এমন উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখেননি। কারণ, সাধারণত সংসদে বিরোধীরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার দাবি জানায় এবং সরকারপক্ষ তাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়। এ ক্ষেত্রে সরকার আলোচনায় আগ্রহী কিন্তু বিরোধী শিবির ‘না’ বলে দিচ্ছে।
রিজিজু বুধবার বলেন, ‘‘আমি একেবারেই হতাশ। জীবনে প্রথম আমি এমন কোনও পরিস্থিতি দেখছি, যেখানে সরকার কোনও বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে চাইছে, কিন্তু বিরোধী পক্ষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এটা কল্পনা করাই কঠিন। কারণ, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধীরাই আলোচনা চায়। সরকার তাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়। এখানে সরকারই বলছে, ‘আমরা আলোচনা করব এবং প্রশ্নের উত্তর দেব। কিন্তু বিরোধীরা শুনতে চাইছে না।’’
আরও পড়ুন:
শিক্ষায় দুর্নীতি, নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে যন্তর মন্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। অভিযোগ, ২০ জুলাই সিজেপি-র ডাকে সংসদ ভবন অভিযানে তরুণ সমাজের উপর লাঠিচার্জ করেছিল দিল্লি পুলিশ। এমনকি, ছর্রা গুলি, পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। রাহুলদের দাবি, শাহের নির্দেশেই পুলিশ এই আচরণ করেছে। তাই এর দায় নিয়ে শাহকে পদ ছাড়তে হবে। অভিযোগ, শাহের বিবৃতি দাবি করে সংসদের ভিতরে-বাইরে বিরোধীরা লাগাতার বিক্ষোভ দেখিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তিনি সংসদের অধিবেশনে যোগ দেননি। এর পরেই বুধবার ২৪ ঘণ্টা সময় দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শাহ বলেন, “(বিরোধীরা) চিঠি লিখে জমা করুন। আজ দুপুর ৩টে থেকে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। আগামীকাল দুপুর ৩টে পর্যন্ত বিষয়টি এই বিষয়ে আমি আলোচনা করতে প্রস্তুত। যে কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত।” বিরোধীদের কোর্টে বল ঠেলে শাহ বলেন, “তাঁদেরই ঠিক করতে হবে যে, তাঁরা আলোচনা চান, না কি অচলাবস্থা চালিয়ে যেতে চান।” অধিবেশনে যোগ না-দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘অধিবেশন শুরু হওয়ার পর আমি প্রতিদিন সংসদে এসেছি। আমার ঘরে থেকেছি। কিন্তু বিরোধীরা যদি সংসদের অধিবেশন চলতে না-দেন, তা হলে করার কী থাকতে পারে?”
বুধবারও লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে গিয়েছে। শাহের বক্তব্যের পরেই রাহুল জানিয়ে দেন, তাঁরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা শুনতে আগ্রহী নন। কংগ্রেস নেতার কথায়, ‘‘পড়ুয়াদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল? দিল্লি পুলিশ, র্যাফ তো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। তাহলে অমিত শাহই কি এই নির্দেশ দিয়েছেন? যদি দিয়ে থাকেন, তবে তিনি অপরাধী। যদি না-দিয়ে থাকেন, তবে তিনি ওই চেয়ারে বসার যোগ্য নন। যে কোনও ক্ষেত্রেই ওঁর পদত্যাগ করা উচিত।’’
সরকারের আলোচনার প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়াকে কংগ্রেসের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতা’ বলে মন্তব্য করেছেন রিজিজু। রাহুলদের কটাক্ষ করে তাঁর বক্তব্য, ‘‘এই কংগ্রেস দলটার হয়েছেটা কী! প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা সরকার চালিয়েছে, শাসন করেছে। আর এখন তারাই সংসদে আলোচনা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য ভাল নয়। দেশের জন্য ভাল নয়।’’ কংগ্রেসকে আলোচনায় যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন রিজিজু। জানিয়েছেন, প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় বাড়িয়ে দেওয়া হবে। সাংসদ হিসেবে এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে সংসদে এই ধরনের অচলাবস্থায় ব্যথিত রিজিজু। তাঁর কথায়, ‘‘অধিবেশন চালিয়ে যাওয়া আমাদের অগ্রাধিকার। যদি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কংগ্রেস আলোচনা চায়, আমরা সময়ও বাড়িয়ে দিতে পারি।’’ উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই বর্ষাকালীন অধিবেশনের শেষ দিন।