Advertisement
E-Paper

ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’: আছড়ে পড়ল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে! ল্যান্ডফল শেষ, অন্ধ্র উপকূলে অঝোর বৃষ্টি, উপড়ে পড়ল গাছ

বিজয়ওয়াড়া, বাপটলা, গুন্টুর-সহ অন্ধ্রপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রাতভর চলেছে প্রবল বর্ষণ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে তামিলনাড়ুর চেন্নাই এবং সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলেও। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেখানেও উত্তাল সমুদ্র। ঝড়বৃষ্টি চলছে পুদুচেরিতেও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:২২

— ফাইল চিত্র।

উপকূলে আছড়ে পড়ার পরে অন্ধ্রপ্রদেশে তাণ্ডব চালাল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। সোমবার রাত ১টা নাগাদ শুরু হয় ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল। কয়েক ঘণ্টা ধরে সেই প্রক্রিয়া চলার পরে মঙ্গলবার সকালে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল সম্পন্ন হয় অন্ধ্র উপকূলে। অন্ধ্র উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশের সময়ে মুরাসুর গতি ছিল ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার। কখনও কখনও ঝড়ের বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্তও বেড়ে গিয়েছিল।

সোমবার রাত থেকেই ‘মুরাসু’র দাপট দেখা যাচ্ছিল অন্ধ্রের উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে। মঙ্গলবার অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। প্লাবিত হতে পারে উপকূল সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলি। সোমবার রাত থেকেই অন্ধ্র উপকূলীয় অঞ্চলে নাগাড়ে ঝড়বৃষ্টি চলছে। বিজয়ওয়াড়া, বাপটলা, গুন্টুর-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রাতভর চলেছে প্রবল বর্ষণ। বাপটলার কিছু এলাকায় রাস্তার উপর উপড়ে পড়েছে গাছ। যান চলাচল যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য দুর্যোগের মধ্যেই ভেঙে পড়া গাছ সরানোর কাজে হাত লাগায় বিপর্যয় মোকাবিলা দল।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে তামিলনাড়ুর চেন্নাই এবং সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলেও। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেখানেও উত্তাল সমুদ্র। ঝড়বৃষ্টি চলছে পুদুচেরিতেও। সমুদ্র থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে স্থলভাগে আছড়ে পড়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আরও বেশ কয়েক ঘণ্টা দাপট দেখাবে অন্ধ্রের উপকূলীয় অঞ্চলে। তার পর স্থলভাগের আরও ভিতরে প্রবেশ করার ফলে এটি ক্রমে শক্তি হারাবে।

মৌসম ভবনের পূর্বাভাস, মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে একটি আরও উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে এবং শক্তি খুইয়ে একটি সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। তখন ঝড়ের গতি থাকতে পারে ৮০-৯০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। পরে মঙ্গলবার মধ্যরাতের দিকে এটি আরও দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। সে সময়ে ৫৫-৬৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির জন্য ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ঝড়ের কারণে সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়া, তিরুপতি এবং বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দরে অন্তত ১৯টি বিমান বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে ট্রেন পরিষেবাও। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে বহু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ইয়ানামের অধিকাংশ জায়গায় এবং রায়লসীমার অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পালনাড়ু, তিরুপতি এবং নন্দিয়াল জেলার এক বা দু’টি জায়গায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি এলুরু, এনটিআর, কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপটলা, প্রকাশম, নেল্লোর, চিত্তুর, অন্নময়্যা, কাডাপা এবং কুর্নুল জেলার এক বা দু’টি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে শ্রীকাকুলাম, পার্বতীপুরম মান্যম, বিজয়নগরম, বিশাখাপত্তনম, আল্লুরি সীতারামা রাজু, আনাকাপল্লী, কাকিনাড়া, বিআর অম্বেদকর কোনাসীমা, পূর্ব গোদাবরী, পশ্চিম গোদাবরী, শ্রী সত্য সাই, অনন্তপুর জেলা এবং ইয়ানামের এক বা দু’টি জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

Cyclone Andhra Pradesh

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy