জম্মু ও কাশ্মীরের বদগাঁওয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত লশকর-এ-ত্যায়বার এক শীর্ষনেতা। স্থানীয় পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরে বেশ কয়েকটি হামলার সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল ওই জঙ্গির। অনেক দিন ধরেই তাঁর খোঁজ চলছিল। ছিলেন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাতেও।
মঙ্গলবার মধ্য কাশ্মীরের ইউসমার্গের কোরাগ এলাকায় একটি অভিযান শুরু করেছিল ভারতীয় সেনা। সঙ্গে ছিল পুলিশও। সেনাসূত্রে খবর, রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের জওয়ানেরা ওই এলাকায় কিছু সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ করেন। তার পরেই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। জঙ্গল এলাকায় জঙ্গিরা লুকিয়ে রয়েছেন সন্দেহে কয়েকটি ঘাঁটিতে যান জওয়ানেরা। সেনাবাহিনীকে দেখে গুলিবর্ষণ শুরু করেন জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেয় সেনা। শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই। বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই চলার পর এক জঙ্গি নিহত হন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ভারতীয় সেনার চিনার কোর জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বদগাঁওয়ে অভিযান চালানো হয়। নিহত জঙ্গির নাম সুলেমান শাহ ওরফে মুসা। বিগত কয়েক দিন ধরেই পীরপঞ্জাল পর্বতমালার দু’দিকে একাধিক হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল মুসার বিরুদ্ধে। সেই কারণে তাঁর খোঁজ চলছিল ওই এলাকায়।
চলতি মাসের শুরুতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বদগাঁও এবং পুঞ্চ জেলার সীমানায় আশদার গালি এলাকায় রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, সিআরপিএফ এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়েছিল। ইউসমার্গে ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন লশকর-এ-ত্যায়বার কুখ্যাত কমান্ডার ইয়াসির। সেনাবাহিনী সূত্রে দাবি, একদা মুসার ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। পরবর্তী কালে মতবিরোধের কারণে আলাদা হয়ে যান। গড়ে তোলেন নতুন গোষ্ঠী। তবে নিরাপত্তাবাহিনীর অনুমান, ৫ সেপ্টেম্বরে ভারতীয় সেনা যখন অভিযান চালায়, তখন ইয়াসির এবং মুসা একসঙ্গেই ছিলেন। ইয়াসির গুলির লড়াইয়ে নিহত হলেও পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন মুসা।
আরও পড়ুন:
সেনাকর্তাদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরে লশকর-এ-ত্যায়বার নেটওয়ার্ক বিস্তার করার নেপথ্যে ছিলেন মুসা। উপত্যকা জুড়ে নানা ধরনের জঙ্গি হামলার কারিগর তিনি। তাঁর মৃত্যু ওই এলাকায় লশকর-এ-ত্যায়বার কাছে ‘ধাক্কা’ বলে মনে করছে ভারতীয় সেনা।