পুলিশকে এ বার তার দায়িত্ব মনে করিয়ে দিল মাদ্রাজ হাই কোর্ট। বুঝিয়ে দিল, উর্দিধারীদের কাজ শাসকের সেবা করা নয়। তাঁদের কাজ রাষ্ট্রের সেবা করা। শাসনব্যবস্থা যাতে সংবিধান অনুযায়ী চলে, তা নিশ্চিত করার জন্য যে পুলিশবাহিনীর নিরপেক্ষ থাকা দরকার, তা-ও মনে করিয়ে দিল আদালত।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়ের প্রসঙ্গে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে ডিএমকে-র এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে মাদ্রাজ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ডিএমকে নেতা। তাঁর আগাম জামিনের আর্জি মঞ্জুর করার সময় তামিলনাড়ুর পুলিশকে দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি এন রমেশ।
হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, শাসকের সেবা করা পুলিশের কাজ নয়। পুলিশের কাজ রাষ্ট্রের সেবা করা। আদালত এ-ও জানিয়েছে, কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য কোনও নেতার ভাবাবেগে আঘাত করেছে— শুধুমাত্র এই কারণে কোনও ফৌজদারি পদক্ষেপ করা যায় না। বিচারপতি রমেশের মন্তব্য, “শাসক এবং বিরোধী দলের প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ করাটা পুলিশের কাছে কোনও সৌজন্য নয়। এটা তাদের কাজের অন্যতম সাংবিধানিক শর্ত। পুলিশের কাজ রাষ্ট্রের সেবা করা, ক্ষমতাসীন দলের নয়। কারণ রাষ্ট্রই চিরস্থায়ী, সরকারে ক্ষমতাসীন দল বদলাতে থাকে।”
আরও পড়ুন:
আদালতের মতে, রাজনৈতিক দলগুলি সমাজমাধ্যমে বা কোনও আলোচনাচক্রে প্রায়শই নিজের প্রতিপক্ষকে ‘ট্রোল’ করে থাকে। কিন্তু এ সব ঘটনায় বিরোধী দলের কোনও নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশ যতটা দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করে, শাসকদলের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না— এমন অভিযোগও প্রায়শই শোনা যায় বলে জানায় আদালত। হাই কোর্ট অবশ্য এ-ও জানিয়েছে, ডিএমকে কাউন্সিলরের মামলায় পুলিশ যে শাসকদল টিভিকে-র নির্দেশমতো কাজ করেছে, এমন কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিকের কাছে পুলিশের আচরণের কী ব্যাখ্যা হতে পারে, সে বিষয়ে বাহিনীকে আরও সচেতন থাকার জন্য বলেছে আদালত।
পুলিশকে তার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “সংবাদমাধ্যমের সামনে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে পুলিশ, সেটা তাদের মূল্যায়নের মাপকাঠি নয়। বরং যখন আশপাশে কেউ নেই, তখন অচেনা লোকজনের সঙ্গে পুলিশ কী ভাবে আচরণ করছে, সেটাই তাদের মূল্যায়নের মাপকাঠি।”