একটি বিজ্ঞাপন নজরে আসে মুম্বইয়ের অপরাধদমন শাখার। সেখানে লেখা ছিল— ‘ফোন হারিয়ে গিয়েছে? চিন্তা করবেন না, আমরা খুঁজে দেব। একবারে বিনামূল্যে।’ বিজ্ঞাপনটি দেখে অপরাধদমন শাখার আধিকারিকদের সন্দেহ হয়। সেই বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে খোঁজখবর চালাতেই প্রকাশ্যে আসে আরও বড় একটি চক্র। যা দেখে রীতিমতো তাজ্জব হয়ে গিয়েছেন অপরাধদমন শাখার আধিকারিকেরা।
বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে বিজ্ঞাপনদাতার খোঁজ শুরু হয়। তাঁকে ধরেও ফেলে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এই বিজ্ঞাপনের আড়ালে একটি বড় চক্র কাজ করছে। শুধু মুম্বই নয়, অন্য রাজ্যেও এই চক্রের জাল বিস্তৃত। ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, গ্রাহকদের কল ডিটেল রেকর্ড (সিডিআর), সাবস্ক্রাইবার ডিটেল রেকর্ড (এসডিআর) এবং মোবাইলের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য ধরে গ্রাহকদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হয়।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চক্রটি গ্রাহকদের সিডিআর, এসডিআর কিনত। তার পর সেগুলি সাইবার অপরাধীদের কাছে মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত। প্রাথমিক তদন্তে মুম্বইয়ের অপরাধদমন শাখা জানতে পেরেছে, কয়েকশো গ্রাহকের মোবাইল ফোনের তথ্য বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫২০-র বেশি গ্রাহকের এসডিআর বা গ্রাহক-তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৫০টি সিডিআর, ৫৫০টি অবস্থান-সংক্রান্ত রেকর্ড এবং ৪২০-র বেশি আইএমইআই-সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার হয়েছে। তাঁরা কোথায় গিয়েছিলেন, কাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সব তথ্য সাইবার অপরাধীদের কাছে বিক্রি হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন আধিকারিকেরা।
অপরাধদমন শাখার ডেপুটি কমিশনার নভনাথ ধাবালে জানিয়েছেন, তাঁরা জানতে পারেন, এক ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ অফিসারের পরিচয় দিয়ে হারানো বা চুরি যাওয়া ফোন খুঁজে দেবেন বলে দাবি করছেন। অভিযুক্ত নিজেকে ইনস্পেক্টর সঞ্জয় বলে পরিচয় দিচ্ছিলেন। সঞ্জয়কে ধরতেই গ্রাহকদের মোবাইলের তথ্য পাচারচক্রের হদিস মেলে। সেই সূত্রে এই চক্রের ‘মিডলম্যান’ হানজালা মুবারক সৈয়দের হদিস পায় পুলিশ। তাঁর মোবাইল ঘেঁটে জানা যায়, শুধু মুম্বই নয়, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডেও এই চক্রের জাল ছড়িয়ে। সৈয়দকে জেরা করে ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের দুই পুলিশকর্মীর হদিস পায় পুলিশ। পিটিআই জানাচ্ছে, তদন্তে ন’জনের একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ, গ্রেফতার হয়েছেন পাঁচ জন, যাঁদের মধ্যে দুই পুলিশ কনস্টেবল রয়েছেন। চক্রের বাকি মাথাদের খোঁজে বেশ কয়েকটি দল গঠন করে তদন্ত চালাচ্ছে মুম্বই অপরাধদমন শাখা।